শার্শা উপজেলার পিআইও রঞ্জুর অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত দাবিতে বিশাল মানববন্ধন, ইউএনও’র নিকট স্মারকলিপি প্রদান শার্শা বাসীর স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ৭, ২০২৬ যশোর জেলার শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শার্শা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা পিআইও রঞ্জুর অপসারণ এবং তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।বক্তারা পিআইওর বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন:-*ডিহি ইউনিয়নের চ্যাংরালী সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয়।*জনপ্রতিনিধিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে অর্থ উত্তোলন।* নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুরিয়া এলাকায় আংশিক কাজ করে পুরো টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ।*সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের কাজ প্রদান এবং উর্ধ্বতন মহলে প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া।মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু। তিনি অভিযোগ করেন, পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন এবং সরকারি অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করছেন।বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের নিকট একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন মোস্তফা কামাল মিন্টু সহ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শার্শার নাগরিকবৃন্দ। স্মারকলিপিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দুর্নীতির প্রমাণ সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “পিআইওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের খবর আমরা পাচ্ছিলাম। আজ সাধারণ জনগণ এ বিষয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমি ইতিপূর্বেই বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি আরও জানান, প্রাপ্ত স্মারকলিপিটি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।”এ সময় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা উন্নয়নের সার্থেই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।প্রায় দুই ঘন্টা মানববন্ধন কর্মসূচি’র সময় বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক যানজটে পরিণত হয়। শার্শা থানা পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে যান চলাচলে সহায়তা করে। শেয়ার আইন-আদালতবিষয়: