সবকয়টি কেন্দ্রেই বিজয়ী হয়ে চমক দেখালেন তমিজ উদ্দিন নবীন চৌধুরী নবীন চৌধুরী প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে ১৬টি ও ১ টি পৌরসভায় ১৪৭টি ভোট কেন্দ্রের সবকয়টি বিজয় হয়ে চমক দেখালেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন। শুধু ভোট কেন্দ্রেই নয় মহানগরসহ ঢাকার -২০টি আসনের মধ্যে ধামরাই আসনে থেকে সবচেয়ে বেশী ভোটের ব্যবধানে বিজয় হয়েছেন তিনিতো । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।এ আসনে ৬ জনের মধ্যে বিএনপির আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন-ধানের শীষ পেয়েছেন ১লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (১১ দলীয় জোটের -এনসিপি) শাপলা কলি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট। মুফতি আশরাফ আলী খেলাফত মজলিস দেওয়াল ঘড়ি পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট।অপরদিকে জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট। বাংলাদেশ জাসদ আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি – কার) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন (ঈগল) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৭৮ ভোট। সব মিলিয়ে আহসান খান আছু, আরজু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন তারা ৩ জন মিলে বাতিল ভোটের চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে ৪ জনের জামানত হারাছেন।প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) অনেক এগিয়ে ছিলেন বলে ভোটাররা তার বিজয়কে নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন।ঢাকা-২০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন। মহিলা ভাটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন। হিজরা ভোটার ২ জন।১৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভায় ১৪৭ টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এরমধ্যে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এ ভোটের মধ্যে ৬ হাজার ১১৭ টি ভোট বাতিল বলে গন্য হয়েছে।বাংলাদেশ জাসদ প্রার্থী (মোটরগাড়ি-কার)। প্রতীকের আরজু মিয়া তিনি মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পর থেকেই প্রচার প্রচারণায় ছিলেন না। এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন (ঈগল) কিছুটা প্রচার প্রচারণায় ছিলেন তবে মাঠ গোছাতে পারেননি।নির্বাচনী মাঠে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জনগন ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা সেই সুযোগ পেয়েছে এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল। তাই ১৪৭ টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের বিজয় হয়েছে।বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ তমিজ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদে ১ বার ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে ৩ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরপর ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টির আমলে তমিজ উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু বিএনপির আমলে ১৯৯০ সালে উপজেলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বর্তমানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদকে পরাজিত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশের মধ্যে ২০০৯ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এমএ মালেক ও ২০১৪ সনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র গোলাম কবিরকে পরাজিত করেন।এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। তার সততা, সাহস, ধৈর্য, দানশীলতা পরোউপকারীসহ সার্বিক আচরণে সব স্তরের মানুষের কাছে তিনি সমাদৃত হয়ে উঠেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন , তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সরকারি সম্মানিভাতা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসহ গরিব-অসহায়দের মাঝে বিতরণ করে দিতেন। ধামরাই উপজেলাতে তার জনপ্রিয়তায় ও সততায় তার সমকক্ষ আর কেউই নেই বললেই অনেকেই মনে করেন । শেয়ার ঢাকাবিষয়: