বেনাপোল – যশোর মহাসড়কের মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা অবশেষে কর্তনের নির্দেশ জারী স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ৩০, ২০২৫ নাভারণ হাইওয়ে থানা এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলন,যশোর’এর আহবায়ক মাষ্টার নুর জালাল ও সমন্বয়ক শেখ মাসুদুজ্জামান এর আবেদনের প্রেক্ষিতে অবশেষে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু শতবর্ষী মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কর্তনের নির্দেশনা জারী করেছে যশোর জেলা পরিষদ। সোমবার ২৮ এপ্রিল এ নির্দেশনা জারী করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-মো.আছাদুজ্জামান।নির্দেশনামায় জানানো হয়েছে, হাইওয়ে পুলিশ খুলনা অঞ্চল, খুলনা এর ২৫-০৪-২০২৫ তারিখের নাভারণ হাইওয়ে থানা-২২০/২৪ নং স্মারক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোর এর আহবায়ক মাষ্টার নূর জালাল ও সমন্বয়ক শেখ মাসুদুজ্জামানের ২৭-০৪-২০২৫ তারিখের আবেদনে বলা হয় যশোর-বেনাপোল (এন-৭০৬) জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কর্তন, অপসারণ করার জন্য।উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোস্থ স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়, যশোর সড়ক বিভাগাধীন যশোর-বেনাপোল (এন-৭০৬) একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। উল্লেখিত জাতীয় মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু শতবর্ষী মরাগাছ ও ঝুঁকিপূর্ণ ডাল-পালা রয়েছে। প্রায় সময় শতবর্ষী গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পথচারী নিহত/আহত ও যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসূমে ঝড় ও বৃষ্টিপাতের ফলে যে কোন সময় উক্ত মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে যে কোন দুর্ঘটনায় জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা পরিষদকে উক্ত মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনেক বার বলা হলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। বর্তমানে জীবন হানির ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।এমতাবস্থায়, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে উক্ত মরাগাছ ও গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কর্তন, অপসারণ করে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো চত্ত্বরে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।উল্লেখ্য,গত ১৫ এপ্রিল/২০২৫ ইং সকালে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কে নাভারণ বাজার এলাকায় একটি গাছ রাস্তায় অবস্থানরত ট্রাকের উপর ভেংগে পড়ে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস গাছ অপসারণ করে এবং রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।প্রসঙ্গতঃ বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের শতবর্ষী ঝুকিপূর্ণ গাছগুলি অপসারনের ব্যাপারে শার্শা উপজেলা এবং ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ ইতোপূর্বে যশোর জেলা পরিষদের কাছে বেশ কয়েকটি চিঠি প্রদান করে। জেলা পরিষদকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, যশোর-বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের দু-পাশে বেশ কিছু স্থানে শতবর্ষী মরা রেইনট্রি গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসেবে। দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এশিয়ান হাইওয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। ঝিকরগাছা উপজেলা মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা, হাজিরালি মোড়, বেনেয়ালি মোড়, গদখালি মোড়, নবীনগর, চারাতলা কলাগাছি ও নাভারন পুরাতন বাজারের মতো জনসমাগম হয় এমন এলাকায় মৃত গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কটিতে যাতায়াতকারী যানবাহনসহ এলাকার মানুষ রয়েছেন আতঙ্কে। জরুরিভিত্তিতে গাছগুলো অপসারণ করা না হলে যেকোনো সময় বিশেষভাবে বর্ষা মৌসুমে ও ঝড়ের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শেয়ার কৃষি ও প্রকৃতিবিষয়: