সামান্য খাদ্য ব্যবসায়ী থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক মির্জা আজম নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৩১, ২০২৪ রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর: মির্জা আজম। ভক্ত, অনুসারী ও অনুরাগীরা তাকে জামালপুরের ২৬ লাখ মানুষের অভিভাবক, উন্নয়নের রূপকারসহ আরও নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করতেন। তিনি যে জামালপুর সদর ও মেলান্দহ মাদারগঞ্জের জন্য শিক্ষা যোগাযোগ ও অবকাঠামো গত উন্নয়ন করেছেন তাও স্বীকার করেন অনেকে। কিন্তু,এলাকা ও এলাকাবাসীর উন্নয়ন করতে গিয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের উন্নয়নও কম করেননি, বলে দাবি করেন অনেকেরই । সামান্য খাদ্য ব্যবসায়ী থেকে তিনি আজ কোটি টাকার মালিক। এছাড়া শোনা যায় দেশবিদেশ করছেন বাড়ি গাড়ী! মাদারগঞ্জ মেলান্দহে নিজের, স্ত্রীর, মা বাবা ভাই বোনের নামে করেছেন কমপক্ষে ১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ! সংগৃহীত তথ্যসূত্রে জানা যায়, মির্জা আজমের জন্ম ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯৬২। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার শুকনগরী গ্রামে। তার পিতার নাম মির্জা আবুল কাশেম এবং মাতার নাম নূরুন্নাহার বেগম। ৯ ভাই বোনের মধ্যে আজম ২য়। ১৯৬৮ সালে বালিজুড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে তার শিক্ষাজীবন হাতেখড়ি। তিনি ১৯৭৮ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৮০ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে একই কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।জনশ্রুতি আছে যে, আশেক মাহমুদ কলেজে স্নাতকে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি ব্যবসা শুরু করেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সরকারি বরাদ্দ চল গমের ডিও তিনি কিনে নিয়ে সরকারি বেসরকারি মিল মালিক,ব্যবসায়ী সরকারি গোদামে সরবরাহ করতেন। ১৯৯১ সালে জামালপুর -৩ আসন মেলান্দহ মাদারগঞ্জ থেকে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি খাদ্য ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন। এমপি হওয়ার পর আজমকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখান থেকেই তার উত্থান শুরু। ৩৩ বছরের ক্ষমতায় আজম আজ জাতীয় নেতা। দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একজন। পরিচিত ঘটেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।মির্জা আজম রাজনৈতিক জীবনঃ- মাধ্যমিকে থাকাকালীন ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হন মির্জা আজম। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ উচ্চ মাধ্যমিক পড়াবস্থায় ১৯৭৯ সালে কলেজের ছাত্র সংসদের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৮৭ সালে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, ১৯৯১ সালে জেলা সভাপতি ও ১৯৯৩ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। যুবলীগে থাকাবস্থায় ১৯৯১ সালে তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে মূল দলীয় রাজনীতে প্রবেশ করেন এবং একই বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং সে বছর জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বার এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় ৩য় বারের মতো বিজয়ী হন।২০০৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি একই সাথে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এরমধ্যে ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) জয়লাভ করেন। ১৯৯১ সালে গঠিত সংসদে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, ১৯৯৬-এর জুনে গঠিত সংসদে সরকারি প্রতিশ্রতি সংক্রান্ত কমিটি ও বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, ২০০১ সালে বিরোধী দলীয় হুইপ,২০০৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে নতুন কমিটিতে মির্জা আজমকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়।অতঃপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৭ম বারের মতো নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মাথায় ছাত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকারের পতন হওয়ায় আজম রাজত্বের পরাজয় ঘটল! বর্তমানে তিনি নিরুদ্দেশ রয়েছেন! শেয়ার জাতীয়বিষয়: