সহিংসতার মধ্য দিয়ে কিছুই অর্জিত হবে না: অধ্যাপক আখতারুজ্জামান নিউজ৭১অনলাইন নিউজ৭১অনলাইন প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৩, ২০২৪ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলচলমান কোটা আন্দোলন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, সহিংসতার মধ্য দিয়ে কোনো কিছুই অর্জিত হবে না। জাতীয় সংকট উত্তরণের জন্য জাতীয় সংলাপ জরুরি। সেজন্য সরকারের ঊচ্চ মহল থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, এ জাতি যে উচ্চতায় উপনীত হয়েছে, সেখান থেকে পশ্চাতে যেতে পারি না।আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সমাবেশ করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল। এতে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এসব কথা বলেন।অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দেব। কারণ তারা জাতিকে আরেকটি শিক্ষা দিল এবং তারা ইতিহাসের একটি অংশ হল। শিক্ষার্থীরা মূলত দেখিয়েছে, নিরস্ত্র অবস্থায় কীভাবে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবি আদায় করতে হয়।সাবেক এ উপাচার্য বলেন, এখন যে সংকট তৈরি হয়েছে, এটা জাতীয় সংকট। এটা একাডেমিক কোনো সংকট নয়। এই জাতীয় সংকট তৈরি হয়েছে পলিটিক্যাল স্থবিরতার কারণে। জাতীয় সংকট জাতীয়ভাবেই সমাধান করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, একইসঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে অস্থিরতা ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, সেখানে থেকে কেটে উঠার জন্য জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরি। এই মুহুর্তে যেটি প্রয়োজন এবং আমি দাবি রাখি, সেটি হলো একটি জাতীয় ঐক্যের। সেটির জন্য সংলাপের বিকল্প নাই।অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, তারা সবসময় কোটার যৌক্তিক সমাধান চেয়েছেন। তবে তৃতীয় পক্ষ শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালনা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। তারপর অনুপ্রবেশকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালিত করে হল দখল, রুম ভাঙচুর, শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা লাশ ফেলার চেষ্টা করেছে।বোরকা পরে অপশক্তি রোকেয়া হলে ঢুকেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করেছিল, শিক্ষার্থীদের গায়ে হামলা করেছিল। মুখোশ পরে, বোরকা পরে তারা রোকেয়া হলে প্রবেশ করেছিল। এই যে অপশক্তির এই অপকর্ম করেছিল, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য শিক্ষক সমিতি বিবৃতি দিয়েছিল মন্তব্য করে ভূঁইয়া বলেন, যে সমস্ত শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা তখনই শিক্ষক সমিতি থেকে বিবৃতি দিয়েছি। সরকারকে বলেছি, তাদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য।এ ছাড়া সে সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কোটা আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ সবাই আমার শিক্ষার্থী। আমরা তাদের পাশে থেকেছি বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া।এরপর শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ঘুরে ৫ দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাদের কার্যালয়ে গিয়ে তার হাতে স্মারকলিপি দেন। এর আগে সমাবেশে স্মারকলিপিটি পড়ে শোনান নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমজাদ আলী।তাদের দাবিগুলো হলো- ১. কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করা।২. আবাসিক হলগুলোতে বৈধ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।৩. আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং যে কোনো ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন রোধে নীতিমালা প্রণয়ন করা।৪. গ্রন্থাগারগুলোতে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।৫. বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । শেয়ার জাতীয়বিষয়: