তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার আগেই আপত্তি জানালো কুবি শিক্ষক সমিতি

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ , মে ২৬, ২০২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক শিক্ষক সমিতির দাবি সমূহ পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের লক্ষে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সেই প্রতিবেদনের প্রতি

অনাস্থা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। তারা প্রতিবেদনটিকে দায়সারা, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে।

তবে তদন্ত কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া শিক্ষক সমিতির আপত্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শনিবার (২৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উক্ত কমিটির বিতর্কিত কার্যক্রম এবং তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন দাখিলের কারণে উক্ত প্রতিবেদনের উপর শিক্ষক সমিতির গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনোরূপ সভা ছাড়া মাত্র তিনজনকে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত অনিয়মতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়ম ও প্রথা অনুযায়ী যেকোনো তদন্ত কমিটি বা সভার কার্যক্রম শুরুর আগে কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য সহযোগে একটি নিয়মতান্ত্রিক সভায় মিলিত হয়ে উক্ত কমিটির টার্মস অফ রেফারেন্স, কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ প্রভৃতি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ন্যূনতম অনুসরণ করা হয়নি বলেও আমরা জানতে পেরেছি। উক্ত কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সচিব আবদুন নূর মুহম্মদ আল-ফিরোজ গত ১৪ মে পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বদলীজনিত কারণে দ্বিতীয় দিনে তার স্থলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্য একজন সম্মানিত সদস্য অংশগ্রহণ করেন, তবে উক্ত কমিটির একটি মাত্র সভায় উপস্থিত থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের উপর পরিপূর্ণভাবে তাঁর পর্যবেক্ষণ ও মতামত প্রদানের সুযোগও সীমিত ছিল বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। সার্বিকভাবে উক্ত কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক কমিটির সচিবের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনোরূপ সভা ছাড়া মাত্র তিনজনকে (প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি জাকির হোসেন) সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত অনিয়মতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে অপর্যাপ্ত, সর্বোপরি বেআইনি যার দায়ভার তিনি এড়াতে পারেননা।

প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে শিক্ষক সমিতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষক সমিতির দাবিসমূহের যৌক্তিকতা নিরূপণ করার জন্য এবং সেগুলোর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সাক্ষাৎকার গ্রহণ না করে মাত্র দুই কার্যদিবসে এমন দায়সারাভাবে প্রতিবেদন দাখিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে এবং এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট আরো বেশি ঘনীভূত হবে বলে শিক্ষক সমিতি মনে করে। ফলে উক্ত ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ এবং পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন শিক্ষকদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন এবং অর্জনে অন্তরায় হবে বলে শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এমতাবস্থায় শিক্ষক সমিতি উক্ত দায়সারা, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের প্রতি গভীর উদ্বেগের সাথে অনাস্থা জ্ঞাপন করছে। একইসাথে শিক্ষক সমিতি সার্বিক দাবিসমূহের সুষ্ঠু সমাধানকল্পে পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরীকে জিগ্যেস করা হলে তিনি বলেন, ‘ তদন্ত প্রতিবেদন এখন সিলগালা অবস্থায় আছে।’

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে না পেয়ে প্রতিবেদনের প্রতি অনাস্থা দেয়ার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘যখন গণতান্ত্রিকভাবে কোনো কাজ করার কথা বলে সেখানেও স্বৈরতান্ত্রিক কাজ করা হয় সেখানে আর কিছু বলা যায় না। কমিটিতে যারা আছেন তারা অভিজ্ঞ মানুষ৷ তাদের মতো অভিজ্ঞরা দায়িত্ব পেয়ে কোনো সভার যে প্রচলিত নিয়ম, তার বাইরে গিয়ে যেভাবে তাড়াহুড়ো করে তদন্ত রিপোর্ট করেছেন তা আসলেই হতাশাজনক।’

শিক্ষক সমিতির দাবি সমূহ পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের লক্ষে গঠিত কমিটির একজন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পেয়েই অনাস্থা দেয়ার বিষয়ে তাকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট না পড়েই তদন্ত কমিটির তৈরি রিপোর্টের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করা যৌক্তিক হয় কিনা? আমি বাদে যারা আছেন তারা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব। এই কমিটি যে সুপারিশগুলো দিয়েছে সেগুলো কুবি শিক্ষক সমিতিকে আগে দেখতে হবে। দেখার আগেই যদি তারা তাদের প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে কি সেটা যৌক্তিক হতে পারে?’

এ ব্যাপারে কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত অনাকাঙ্খিত ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: হেলাল নিজামীর প্রতিও আপত্তি জানিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

Loading