“কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শে এপ্রিলের সেই কালো অধ্যায়”

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ , মে ২২, ২০২৪

প্রাচীন পূর্ব বঙ্গীয় সভ্যতার সূচনালগ্নে শিক্ষা ও জ্ঞান চর্চা বিস্তারে ময়নামতি অঞ্চলের রয়েছে অগ্রনী ভূমিকা; যেখানে সভ্যতার বিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে আজ ও দাঁড়িয়ে আছে শালবন বিহার | লাল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজে শ্যামলে ঘেরা আমাদের প্রাণের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় | আজ থেকে ১৪ বছর আগে কোন এক গ্রীষ্মের তাপদাহ দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ক্যারিয়ারের শুরুতে দেশের নামকরা কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গকালীন এবং সফলতার সহিত শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি শিক্ষকতা জীবনে আমি কখনো কোয়ালিটির সাথে আপোস করিনি। শ্রেণীকক্ষে যথাযথ পাঠদান ও পাঠদানের বাহিরে ছাত্রছাত্রীদের যে কোন সমস্যা সমাধানে দৃঢ় প্রতিঙ্গ; আর এ জন্যই মনে হয় আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্রছাত্রী আমাকে নিজেদের ভরসার জায়গা মনে করে।

গত ২৮ শে এপ্রিল ২০২৪ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা আমার মনে দারুণ দাগ কেটেছে। মনে হয়েছে সেই দিনটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আবারও কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। যদিও আমরা দেখেছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অপসংস্কৃতি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি না হলেই ভিসি বিরোধী আন্দোলন; যা বিগত সময়ে একইভাবে ঘটেছিল, এ থেকেই আবারও প্রমানিত হয় ইতিহাসের পুনারবৃত্তি ঘটে। শিক্ষকদের অনেক দাবি দাওয়া থাকতেই পারে; কিন্তু সেটা প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত রুচিসম্মত। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক হিসেবে যদি আমরা রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকে সম্মানিত করতে না পারি; তাহলে আমরা আমাদের ছাত্রদের কী শিক্ষা দিব? এবং তাদের কাছ থেকে আমরা কতটুকু সম্মান আশা করব? পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার; কিন্তু আমি এটাও শিখেছি যে, প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত মার্জিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যাক্তিগত সম্পদ নয়; এটা রাষ্ট্রের সম্পদ। সুতরাং, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের সকল অংশীজনদের সচেতন হওয়া উচিত; এবং শিক্ষকদের ৭ দফা দাবি কতটুকু যৌক্তিক তা নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

অতঃপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক; যিনি রাষ্ট্র কর্তৃক মনোনিত তাঁকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে বলছি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের কাছে আমার আহ্বান, আসুন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ও যথাযথ সম্মানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাই অংশগ্রহণ করি।

Loading