যশোরের শার্শায় বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ , জুন ৭, ২০২৬


যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার বেলা ১১টার সময় শার্শা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর শার্শা উপজেলা বিএনপির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারসহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শার্শা উপজেলার আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মশিয়ার রহমানের ছেলে কনস্টেবল মামুন হাসান জুয়েলকে পুলিশ বাহিনী থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিবারের সদস্যকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বার্থে বিতর্কিত নিয়োগগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনদাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে শার্শার শ্যামলাগাছী গ্রামে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল মামুন হাসান জুয়েল অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনরোষে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয় পুলিশ সদস্যরা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলায় লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা ব্যবহার করা হয়। এতে জুয়েল গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঠেকাতে গেলে তার এক স্বজনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্বে তাদের বালুর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং চাঁদা দাবির মতো বিষয়গুলো নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ২৯ মে বিকেলে শ্যামলাগাছি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

Loading