কপিলমুনিতে জিও ব্যাগে আঙ্গুর চাষে সাফল্য মিলন দাশ মিলন দাশ পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ণ , মে ২১, ২০২৬ লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে| তবে এসব প্রতিকূলতাকে জয় করে খুলনা জেলার আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কপিলমুনির বিরাশি গ্রামের উদ্যমী উদ্যোক্তা ˆতয়েবুর রহমান| তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে|সীমিত জমিকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির মাধ্যমে লাভবান হওয়া যে সম্ভব-ˆতয়েবুর রহমান তার বাস্তব উদাহরণ| প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি আঙ্গুর চাষ করছেন, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে|জানা যায়, গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন| প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন| পরবর্তীতে প্রায় আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর গাছ লাগান| বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরেছে, যার ওজন প্রায় এক কেজি বা তারও বেশি| গাছগুলোতে ফলের পরিমাণ ও মান দেখে স্থানীয় মানুষজন বিস্মিত এবং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন|মূলত জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানি ব্যবস্থাপনা করা যায়| এতে লবণাক্ত মাটির ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়| এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে গাছগুলো উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে|ˆতয়েবুর রহমান জানান, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি নতুন কিছু করার চিন্তা করেন| অনলাইনে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট দেখে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন| এরপর সাহস করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন|তিনি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম উপকূলীয় এলাকায় আঙ্গুর হবে কি না| কিন্তু চেষ্টা করে দেখলাম, সঠিক পদ্ধতি মেনে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব| আগে স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের ¯^ীকৃতি পেয়েছি| এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি| ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ করতে চাই|তিনি আরও বলেন, যে কেউ যদি আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়, আমি তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি| আমাদের এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা নতুনভাবে লাভবান হতে পারবেন|এদিকে পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের আরেক কৃষক তহিদুল ইসলামও আঙ্গুর চাষে সফল হয়েছেন| তিনি ইতোমধ্যে তিনটি ভিন্ন জাতের আঙ্গুর চাষ করছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে| তার বাগানেও প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন|উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ| সাধারণত এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুরের জন্য অনুকূল নয় বলে ধারণা করা হয়| কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন ˆতয়েবুর রহমান ও তহিদুল ইসলাম|তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা উন্মুক্ত রয়েছে| ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে|স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে| শুধু আঙ্গুরই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফসল চাষের পথও সুগম হবে| এতে করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ¯^াবল¤^ী হওয়ার সুযোগ ˆতরি হবে|বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন উপকূলীয় কৃষি হুমকির মুখে, তখন এমন উদ্যোগই হতে পারে টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা| আর সেই পথেই এক নতুন ¯^প্ন বুনছেন উপজেলার কপিলমুনির উদ্যোক্তা ˆতয়েবুর রহমান-উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে| শেয়ার সারা দেশবিষয়: