চাল ব্যবসায়ীদের এলসি খুলতে গড়িমসি

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ , জুলাই ২৮, ২০২২

আমদানির অনুমতি পেয়েও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে এলসি খুলতে গড়িমসি করছেন চাল ব্যবসায়ীরা। অনেকে এলসি খুলেও আনছেন না চাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত: মিলারদের কারসাজি ঠেকাতেই চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

চাল ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ। সক্রিয় পুরনো মিলার ও ব্যবসায়ীরাও। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও সন্তোষজনক।

তবুও বাড়ছে চালের দাম। সিন্ডিকেট কারসাজিকে দায়ী করছেন অনেকে। এমন বাস্তবতায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

২৩ জুলাই পর্যন্ত আমদানিকারকরা এলসি খুলেছেন ৪ লাখ ৯০০ মেট্রিক টনের। এরই মধ্যে দেশে এসেছে ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল।

তবে গত ১৩ জুলাই যে সকল ব্যবসায়ী চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন, তারা এখন বলছেন ভিন্ন কথা। দেশে ডলারের মূল্য বাড়ার অজুহাতে আমদানি করতে চাচ্ছেন না তারা।

চাল আমদানিকারক শিমুল পাল বলেন, “ডলারের রেটটা খুব বেশি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিনিকেট চাল বাংলাদেশ থেকে কিনতে পারছি ৬৩ টাকা কেজিতে। বাইরে আনলে ৬৫-৬৬ টাকা পড়ে যায়, সরকার শুল্ক ছাড় দেওয়ার পরেও। প্রতিকেজিতে ২ টাকা লোকসান দিয়ে চাল আমদানি করাটা বোকামি হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন সন্তোষজনক সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি ও মজুদারির কারণে চালের দাম বেড়েছে। আর বাজারে চালের সরবরাহ ও যোগান বাড়াতেই আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

খাদ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “যে চাল খাচ্ছি, সেটা সারপ্লাস দেখতে পাই, সে চাল বিদেশি রপ্তানিও করতে পারবো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, মার্কেটিং সিস্টেম বা সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থিতিশীল।”

অনুমতি নেয়ার পর চাল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের গড়িমসি যৌক্তিক নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।