কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য…

প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১৮, ২০২৩

মো. সাইদুর রহমান

সামাজিক অবক্ষয়ের কাছে পরাস্ত সামাজিক মূল্যবোধ। সামাজিক অবক্ষয় পরিবার ও সমাজের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে; সামাজিক বন্ধন নষ্ট করে দেয়। প্রযুক্তির চৌম্বকীয় আকর্ষণে পরিবার কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে মানুষ। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা, কর্তব্যপরায়ণতা, সচেতনতা কমে যাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয়ের বসতি সমাজের রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ। অবক্ষয়ের পর্যায় বলতে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। অনেক অপরাধ সমাজে স্বাভাবিকতায় রূপ নিয়েছে। যদিও অপরাধের ধরন ও গতিবিধি যুগের তালে পরিবর্তিত হচ্ছে।
কিশোর গ্যাং সারাদেশে প্রযুক্তির সমীকরণে সহপাঠীকে খুনের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে। স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, ছেলে বাবাকে, ভাই ভাইকে হত্যা করছে। যৌতুক, ধর্ষণ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক অবক্ষয় সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ধর্ষণ, যৌতুক, ইভটিজিংয়ের মতো অবক্ষয়ের ভয়াল থাবায় শুধু ভুক্তভোগী সমাজে চরম লাঞ্ছনা নিয়ে বসবাস করে তা নয়, তার পরিবারের গায়েও পাথরচাপা পড়ে।
জুয়া এখন প্রযুক্তি নির্ভরশীল। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে জুয়া খেলা অনিয়ন্ত্রিত! মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নতুন নতুন মাদকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির নিয়মিত অভিযানের পরও থেমে নেই মাদক কারবারিরা।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। করোনা মহামারিতে আমরা স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় দেখেছি। বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারে পণ্যের দাম দ্বিগুণের পাশাপাশি অনেক সময় ওজনেও কম দেওয়া হয়। ভেজালের ভিড়ে আসল খুঁজে পাওয়া কঠিন। সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় অবক্ষয় রোধের বিকল্প নেই। সামাজিক অবক্ষয় সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি একে অন্যের পরিপূরক। সমাজ রক্ষা করতে না পারলে পরিবার-ব্যক্তিকে রক্ষা করা কঠিন হবে।
নান্দাইল, ময়মনসিংহ