চাষির জীবনে স্বস্তি আনছে মোবাইল সোলার প্যানেল

প্রকাশিত: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ , নভেম্বর ১৭, ২০২২

সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে চাষের কাজ অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে৷ কিন্তু বাস্তবে নানা সমস্যা সেই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রয়োগের অন্তরায় হয়ে ওঠে৷

ভারতের এক চাষি এক বাস্তব সমাধানসূত্র খুঁজে পেয়েছেন৷ নিজের মোবাইল পাওয়ার প্লান্টের সাহায্যে হরজিন্দর সিং নিজের খেতে সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ খামারে পৌঁছানোর পরেই তিনি সবার আগে সৌর প্লান্ট চালু করেন৷ তার মতে, দুই জন হাত লাগালো পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের বেশি সময় লাগে না৷ আগেও তিনি ফসল ফলানোর সময়ে সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচের কাজ করেছেন বটে, কিন্তু চোরের উপদ্রবে তাকে উদ্ভাবনী সমাধানসূত্র বার করতে হয়েছে৷ সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে হরজিন্দর বলেন, ‘‘আমাদের খামারে আগে সোলার প্লান্ট বসানো ছিল৷ কিন্তু সোলার প্যানেল চুরি যেতে লাগলো৷ সেই সমস্যার কারণে আমরা ট্রাকটর ট্রলির উপর এমন প্যানেল বসিয়েছি৷”

ট্রাকটর ট্রলিতে বসানো এই মোবাইল সোলার প্লান্টে ২৪টি প্যানেল রয়েছে৷ হরজিন্দর সিংয়ের মতে, তাঁর খেতে সেচের জন্য সেই প্লান্টের শক্তি যথেষ্ট৷ দিনের বেলায় সূর্ষের অবস্থান অনুযায়ী প্যানেলগুলি ঘোরানো যায়৷ এভাবে পানির পাম্পের জন্য আরও শক্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব৷ হরজিন্দর সিং বলেন, ‘‘আমরা ফার্মের মধ্যেই যে কোনো দিকে এই ট্রলি রাখতে পারি৷ সূর্যের আলো অনুযায়ী প্যানেল ঘোরানো যায়৷ ট্রলি সরানোর প্রয়োজন হয় না৷”

গুরদর্শন সিংয়ের ওয়ার্কশপে হরজিন্দর সিংয়ের মোবাইল সোলার প্লান্ট তৈরি করা হয়েছে৷ হরজিন্দর নিজের আইডিয়া নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন৷ আইডিয়া পছন্দ হওয়ায় তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন৷ গুরদর্শন বলেন, ‘‘একটি ফার্মে পাকাপাকিভাবে এমন প্লান্ট বসালে সেটি অন্য ফার্মে নিয়ে সেচের কাজ করা যায় না৷ আমি এমনভাবে প্লান্ট তৈরি করেছি, যাতে সেটি বন্ধ করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ এখন এটি সম্পূর্ণ সচল ও কার্যকর৷ ফলে চুরির ভয় নেই৷”
গুরদর্শন সিং অনেক বছর ধরে কৃষি সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসা করছেন৷ কিন্তু তাঁর এই উদ্ভাবন আরও মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি পৌঁছানোর সুযোগ করে দিচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘কখনো ভাবি নি যে এত সংখ্যক মানুষ এটা দেখতে আসবেন৷ তবে জানতাম এই সমাধানসূত্র ভালো হবে৷ প্রথমে নক্সা এঁকে তারপর তৈরি করেছিলাম৷ ভালো হবে জানতাম বটে, কিন্তু ভাবতে পারি নি যে এটা এত বিখ্যাত হয়ে উঠবে৷”

এই সোলার প্লান্টের কারণে চাষি হিসেবে হরজিন্দর সিংয়ের জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে৷ এখন তিনি খামারের বিভিন্ন অংশে নির্মল জ্বালানির সাহায্যে সেচের ব্যবস্থা করতে পারেন৷ বিশাল অর্থের বিনিয়োগ সত্ত্বেও তাঁর মনে কোনো আক্ষেপ নেই৷ হরজিন্দর বলেন, ‘‘আমি ট্রাকটর ট্রলির জন্য প্রায় দেড় লাখ এবং সোলার প্যানেলের জন্য আড়াই লাখ ভারতীয় টাকা খরচ করেছিলাম৷ তবে সেই ব্যয়ের সুফল এখন ভোগ করছি৷”

সেচের কাজের শেষে সোলার প্লান্ট ঠিক যেভাবে খোলা হয়েছিল, আবার সেভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো৷ ট্রাকটারে করে সহজেই সেটি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব৷

এখন সেটি হরজিন্দর সিংয়ের বাসায় আনা হয়েছে, যেখানে চুরির ভয় নেই৷ ফসলে পানি দেবার প্রয়োজন পড়লেই সেটি আবার খেতে নিয়ে যাওয়া হবে৷