মহাসপ্তমী উদযাপিত, আজ কুমারীপূজা

প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ , অক্টোবর ৩, ২০২২

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে রবিবার। এদিন ভোরে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, ঢাক-ঢোল কাঁসর বাজিয়ে, চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে সপ্তমীবিহিত পূজা হয়। সোমবার মহাষ্টমী। এদিন সকালে দুর্গা দেবীর মহাষ্টমীবিহিত পূজা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি এবং মহাষ্টমীর আকর্ষণ কুমারী পূজা হবে।

রোববার মহাসপ্তমীর দিনে সকাল থেকে রাজধানীর পূজাম-পগুলোতে মানুষের ঢল নামে। বিকেলের দিকে দর্শনার্থী বাড়তে থাকে। জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ ঢাকের বাদ্য, চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে মুখর ছিল। সোমবার মহাষ্টমীতে দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। মঙ্গলবার মহানবমী ও বুধবার বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।

শাস্ত্রমতে, দেবীকে আসন, বস্ত্র, পুষ্পমাল্য এ ধরনের ষোল উপাদান (ষোড়শ উপাচার) দিয়ে মহাঅষ্টমীর পূজা-অর্চনা করা হয়। প্রত্যুষে ত্রিনয়নী দেবীর চক্ষুদান করা হয়। পূজা-অর্চনা শেষে দেবীর কৃপালাভের আশায় তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা।

রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে সোমবার বেলা ১১টায় মহাসমারোহে কুমারী পূজা হবে। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য। শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।

Loading