সমঝোতা হলে সব ভোট হবে ব্যালটে

প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২

নির্বাচন যত সামনে আসছে ইভিএম নিয়ে আলোচনা ততই বাড়ছে। স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একেক সময় একেক মন্তব্য ঘিরে আলোচনার পালে যেন হাওয়া লাগছে। ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের ইভিএম ব্যবহার না করার আহ্বান নিয়ে অবস্থান জানাতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন সিইসি ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজি হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা হলে সব ভোট ব্যালটে হবে। দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে আমাদের কোন অসুবিধা নেই। তখন আমরা ব্যালট ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এটার কারণে যদি সব দল নির্বাচনে আসে, তাহলে সেটা তো ভাল উদ্যোগ। বুধবার নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে সিইসি এ কথা বলেন।

কারচুপির বিষয়ে সিইসি বলেন, আমরা যদি ইভিএম তুলে দিই। আর যদি কারচুপি হয়- আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, কেউ পরাজিত হয়ে মামলা করে পুনর্গণনা করে জয়ী হয়ে সংসদে আসতে পারবেন না। এটা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি। আমরা এটাকে আমলে নিয়েছি। ভারত কিন্তু বায়োমেট্রিক দিতে পারেনি আমাদের ইভিএমের মতো। ইউরোপের কথা বলা হচ্ছে।

আমি জানি না, কী জন্য এসব দেশে ইভিএম তুলে দেয়া হয়েছে। তবে ওদের যদি হাত তুলে ভোট দিতে বলেন, ওরা ভদ্রভাবে হাত তুলে ভোট দিয়ে চলে আসবেন। নির্বাচন নিয়ে ওখানে কারচুপি হয় না। ওদের ওখানে কোন মেশিন বসাতে হয় না। কারণ ওদের সভ্যতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা এমন একটা পর্যায়ে এসেছে যে, ইভিএম কি আর ব্যালট হলেই কি।

ইভিএম সঙ্কটের বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে কোন সঙ্কট দেখছি না। রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সঙ্কট দেখছি তা ইভিএম নিয়ে নয় আরও মোটা দাগে সঙ্কট। আমরা আশা করি, এই সঙ্কট কেটে যাবে। তার যদি ফয়সালা হয় তাহলে সব ভোট ব্যালটে হবে। আমাদের জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো নির্বাচনটা হলো কি-না। ইভিএম নয়।

নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বিঘ্ন হলো কিনা সেটা (নির্বাচন) বড় কথা। কাজেই বড় ধরনের সঙ্কট ওখানে নয়। ওই সঙ্কটটা যদি নিরসন হয় তবে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে উঠে আসতে পারে।

ইভিএম নিয়ে চিঠির প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, গতকাল ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিক যে বিবৃতি দিয়েছেন ওটা আমি পড়েছি। ওনারা যে কথাগুলো বলেছেন, তা বহুবার বলা হয়েছে। জাফর ইকবাল বলেছিলেন, এটা খুুুব জটিল মেশিন নয়। ওই হিসেবে বলছেন যে, এটা দুর্বল যন্ত্র। যন্ত্র দুর্বল কি সবল এটা আমার বিবেচনা করার বিষয় নয়।

সবল হওয়ারও দরকার নেই, দুর্বল হওয়ারও দরকার নেই। যন্ত্র কাজ করছে কিনা, এটাই আসল বিষয়। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা হাজার হাজার নির্বাচন করেছি। হাজার হাজার ইভিএম ব্যবহার করেছি। কোথাও আমাদের যন্ত্র ম্যালফাংশন করেছে, এমনটি ঘটেনি।

কাজি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ডিজিটাল জালিয়াতি সম্ভব এই কথা তো প্রথমদিন থেকেই বলা হচ্ছে। আমরা এটা নিরসন করার জন্য প্রচুর সময় নিয়েছি। সব দলকে প্রযুক্তিবিদ নিয়ে এসে যাচাই করে দেখতে বলেছি। আমরাও ওদের কথা আমলে নিয়ে পরীক্ষা করেছি। আমরা দেখলাম বাজারে যে কথা চালু রয়েছে ডিজিটাল জালিয়াতি সম্ভব, এর সপক্ষে আমরা কোন প্রমাণ পাইনি।

কিভাবে জালিয়াতি সম্ভব দলগুলো যদি নির্দিষ্টভাবে না বলতে পারে, দেখাতে না পারে, আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাচ্ছি ডিজিটাল জালিয়াতি সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমাদেরকেই প্রমাণ করতে হবে ডিজিটালি জালিয়াতি সম্ভব নয়, এটা কিন্তু আইনগত ভাষা নয়। যারা অভিযোগ করছেন তারাই আমাদের দেখিয়ে দেবেন লিখিত এবং মৌখিকভাবে যে কিভাবে জালিয়াতি সম্ভব। আজ অবধি কোন দল এই কথাটা বলেননি বা দেখাননি। দলগুলোর মধ্যে ইভিএম নিয়ে আস্থা নেই, এটা জানি না কতটা আস্থা নেই। কতগুলো দল এসেছিল, আমরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখিয়েছি।

পাঁচ-সাতটি দল সরাসরি ইভিএমের পক্ষে বলেছে, কতগুলো দল শর্ত সাপেক্ষে বলেছে।

ইভিএমের পক্ষে যারা বলেছেন তারা একেবারেই কম নয়। আমরা তাদের ভোটাভুটির জন্য ডাকিনি। মতামতের জন্য ডেকেছিলাম। আমরা সুবিধাগুলো তুলে ধরেছি। কারচুপি ও সহিংসতা নিঃসন্দেহে কমে যাবে। আমরা স্টাডি করেছি, ওখানে আমার ভোট আপনি, আপনার ভোট আমি দিতে পারব না। ওখানে জোরাজুরি, সহিংসতা অনেকখানি কমে যাবে।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক সঙ্কট আরও প্রকট হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক সঙ্কট প্রকট হবে না। আর ভারতের তুলনা দেয়া হচ্ছে। পেপার ট্রেইল যুক্ত করা। এটা যদি থাকে, কে কাকে ভোট দিল পরে দেখা যায়। ভারতের যত নির্বাচন হয়েছে, ওই পেপার ট্রেইল দিয়ে কেউ এমপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন, এমন নজির নেই। একটাও হয়নি এমন।

আমাদের দেশে যে ব্যালটে হয়েছে গত ৫০ বছরে আদালতে মামলা করে পুনর্গণনার পর সংসদে এসেছে এই তথ্য আছে কি-না? যদি না থাকে তাহলে এই একটা জিনিস নিয়ে আপনারা এত উঠে-পড়ে লাগলেন কেন? বিগত ৫০ বছরে কোন নির্বাচনে দেখা গেছে কি? আমাদের দেশে কারচুপি হয়, তাহলে মামলার পর কেউ তো জয়ী হয়ে আসেনি। কাজে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করাটাই বড় কথা আস্থাভাজনভাবে।

আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে ইভিএম কেনা কতটুকু যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর্থিক সঙ্কটের কথা আমি এপ্রিশিয়েট করি। এটা মন্ত্রণালয় দেখবে। এটা দেখার দায়িত্ব আমাদের না। একটা সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইভিএম লাগবে। সরকার যদি বলে পয়সা দিতে পারব না, দেশের মানুষকে আর্থিক সঙ্কটে ফেলে আমরা তো জোরাজুরি করব না।

সুষ্ঠু নির্বাচনের যে আর্থিক মূল্য এবং অসুষ্ঠু নির্বাচনের যে আর্থিক মূল্য তা ইভিএমের মূল্যের চেয়ে অনেক অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ১৫০ টি ইভিএমে করার আর ১৫০টি আসনে ব্যালটে ভোট করার। কোন পরিবর্তন করতে হলে আমাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করতে হবে।

Loading