বনানী কবরস্থানে সমাহিত হবেন গাজী মাজহারুল

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হবে কিংবদন্তি গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এমন সিদ্ধান্তই জানিয়েছে তার পরিবার। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে সেখানে সমাহিত করা হবে।

এদিন বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে নেওয়া হবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি)। এখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় গাজী মাজহারুল রাজধানীর নিজ বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর সময় গাজী মাজহারুল আনোয়ার এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণাগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মেয়ে দিঠি আনোয়ার একজন কণ্ঠশিল্পী।

১৯৬৭ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গান লেখাতেও দক্ষতা দেখান তিনি। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নান্টু ঘটক’ মুক্তি পায় ১৯৮২ সালে। তিনি মোট ৪১টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন।

গাজী মাজহারুলের পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম- ‘শাস্তি’, ‘চোর’, ‘শর্ত’, ‘স্বাধীন’, ‘সমর’, ‘রাগী’, ‘আর্তনাদ’, ‘জীবনের গল্প’, ‘পাষানের প্রেম’, ‘তপস্যা’, ‘ক্ষুধা’, ‘পরাধীন’, ‘এই যে দুনিয়া’, ‘হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ’। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান লিখেছেন। ২০ হাজারেরও বেশি গানের রচয়িতা তিনি। বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান পেয়েছে তার লেখা তিনটি গান।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য গাজী মাজহারুল স্বাধীন দেশের সর্বপ্রথম পুরস্কার ‘বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এছাড়া গাজী মাজহারুল আনোয়ার পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

Loading