চুয়েট ক্যাম্পাসে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দায়ী আধিপত্য বিস্তার

প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ণ , জুন ১৬, ২০২২

বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম শহরের অদূরে দেশের খ্যাতিসম্পন্ন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র বিষয়কে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্রদলের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে চুয়েটে ২১শে মে তারিখ বিকালে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করে। মিছিলের সময় তারেক হুদা হলের সামনে ছাত্রদলের ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনার জের ধরে হলের ইস্যুতে তারেক হুদা হলের আ জ ম নাসির গ্রুপের কর্মীদের সাথে নওফেল গ্রুপের বাকবিতণ্ডা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ই জুন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারেক হুদা হলের ছেলেরা দেশীয় অস্ত্র সহ অবস্থান নিয়ে নাসির গ্রুপের প্রিয়ম- ৪র্থ বর্ষ, কাব্য – ৪র্থ বর্ষ, রাজিন-৩য় বর্ষ, মুন্না- ৩য় বর্ষ সহ ১৫-২০ জন ছেলেরা ড. খুদরত এ কুদা হল এবং চুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ এর মাঝামাঝি দেশীয় অস্ত্র সহ অবস্থান নেয়। এসময় তারা কুদরত ই খুদা হলের দিকে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে থাকে এতে আশিকুর রহমান-২য় বর্ষ নামের হলের আবাসিক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে নওফেল গ্রুপের ছেলেরা ধাওয়া দিলে নাসির গ্রুপের অনুসারীরা পিছু হটে যায়। এসময় নওফেল গ্রুপের অনুসারীদের ছোড়া ইটে আ জ ম নাছির গ্রুপের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান তানিম আহত হয়। এরপরে নাসির গ্রুপের ছাত্ররা বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ রামদা, রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এসময় নাসির গ্রুপের রাফি মাহাদী শুভ 2018 ব্যাচের কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রকে ছবিতে রামদা হাতে দেখা যাচ্ছে । এছাড়া শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নিলয় -৪র্থ বর্ষ তার হলের নিচে উচ্চস্বরে বলতে থাকে “এই হলে ছাত্রলীগের কোনো রাজনীতি চলবে না” – বিষয়টি হলের অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী নিশিত করেছে। ছাত্রলীগের কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী এই ছেলের জামাত শিবির এর সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও ক্যাম্পাসে সে আ জ ম নাসির এর অনুসারী তাছাড়া বাসে উঠার সময় আরেকজন তড়িৎ কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থী রাফসানের হাতে রামদা দিয়ে নাসির পন্থী ছাত্রলীগকর্মী পাপেল কোপ দেয়। তাকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। কএরপরের রাতে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে শহীদ তারেক হুদা হলের ছাদ থেকে কুদরত ই খুদা হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়, এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে রাতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল গ্রুপের কর্মীরা নাসির গ্রুপের ছেলেদের আবারো ধাওয়া দেয়।এ সময় তারেক হুদা হলের একজন ছাত্র আহত হয় বলে জানা যায়। সর্বশেষ গতকাল রাত থেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান তৈরি করে রেখেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গতকাল বিকেলে আরাফাত রহমান রানা নামের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন শিক্ষক এর সাথে ফাহিম আরিফ নামের ১৭ ব্যাচের নাসির পন্তি একজন ছাত্র বেয়াদবি করার বিষয় উঠে এসেছে। এ বিষয়ে নওফেল গ্রুপের আরেক নেতা ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক বিজয় হোসাইন বলেন-” জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে আমরা চুয়েট ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যখনই স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে যাই তখনই এরকম বাধার সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি এবং ছাত্রলীগ নামধারী অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিহত করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।এরমধ্যেই শিক্ষার্থীদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চুয়েটে আগামী ৬ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে চুয়েট প্রশাসন।