সাম্প্রদায়িক চেতনায় বশেমুরবিপ্রবি

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ , এপ্রিল ১৪, ২০২২

বাঙালী সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক বাংলা নববর্ষ। বহু বছর ধরেই বাঙালী জাতির নিজস্ব ঐতিয্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরে বর্ষবরণের নানা ধরনের আয়োজন। সাধারণত বাংলা নববর্ষে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ গুলো আয়োজন করে নানা কর্মসূচির।

এরই ধারাবাহিকতায় করোনাকালীন বিরতির পর চলতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা ১৪২৯ কে বরণ করেছো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলো গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয়ভাবে নববর্ষ উদযাপন করা হলেও চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নববর্ষ উপলক্ষে রাখা হয়নি কোনো আয়োজন।

আর চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এরূপ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকে। তাদের মতে সম্প্রতি সারাদেশে যখন সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ছিলো সার্বজনীন উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটানো, কিন্তু অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল শক্তিকে হতাশ করে চলতি বছর কেন্দ্রীয়ভাবে নববর্ষ উদযাপনে বিরত ছিলো বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ বলেন, বৈশাখ হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙ্গালির প্রানের উৎসব। আমাদের শেকড়ের উৎসব। আর ঈদ, পূজা হলো নিদিষ্ট ধর্মের উৎসব। তাই পহেলা বৈশাখ হলো সত্যিকারের জাতীয় উৎসব।আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবো, রমজানের রোজাও রাখবো। এটাই ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মূল মন্ত্র!স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক জামাত ও হেফাজত পহেলা বৈশাখে এ বর্ষবরণ উৎযাপন কে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ও হারাম মনে করে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ উৎযাপনে দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়ে নি।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর জামাত ও হেফাজতের পেতাত্বারা ভর করেছে।

এ বিষয়ে মতামত ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক চৌধুরী তপু বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কখনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে উৎযাপন করতে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ষ্ট্যাণ্ডার্ডের আচরণ করতে পারেনা। পরিস্থিতি যা ই হোক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত নিজেদের নিজস্বতা ধরে রেখে তাদের কার্যক্রম চালানো।

তিনি আরও বলেন, জ্ঞান অর্জন, সাংস্কৃতিক চর্চা, মুক্ত চিন্তার পরিবেশ করে দেয়া সর্বক্ষেত্রে নিজেদের শাণিত করার আদর্শ ক্ষেত্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু নানা ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের বৈচিত্র্যময় চারণভূমি তাই বিশ্ববিদ্যালয়েরও উচিত অসাম্প্রদায়িক আচরণ করা ও সব ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমনকি ধর্মীয় উৎসবে নিজেদের আয়োজনে উৎযাপন করা। না হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য সাধিত হবে কেমন করে?

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড . একিউএম মাহবুব এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন কেন্দ্রীয় ভাবে কোন ধরনের আয়োজন না করলেও বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল ) সকালে বাংলা বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা বর্ষবরণ কর্মসূচি। এসময় তারা মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ দেয়ালিকা প্রকাশ সহ নানা আয়োজনে স্বাগত জানায় বাংলা নতুন বছরকে।