কোন পথে উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন; ইলেকশন নাকি সিলেকশন?

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৮, ২০২২
দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন।বাকি আছে ৩ দিন।আগামী ৩১ শে মার্চ এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।গতমাসে হঠাৎ করে ঘোষণা আসে সম্মেলনের এবং সম্মেলনের তারিখও নির্ধারিত হয় এ মাসের ১ লা মার্চ।কিন্তু হঠাৎ করেই তারিখ পরিবর্তন হয়ে আগামী ৩১ শে মার্চ সম্মেলনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করা হয়।সম্মেলনের ৩ দিন বাকি থাকলেও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নেই কোন উৎসাহ উদ্দীপনা।সবাই নিরব ভূমিকা পালন করছে।প্রার্থীতা নিয়েও নেই কোনো মাতামাতি।
আনন্দ ও উৎসব বিহীন ভাবেই কি হবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন,এমন প্রশ্ন তৃনমুল নেতাকর্মীদের ? উপজেলার মধ্যে নেই কোনো ব্যানার ফেস্টুন।ব্যানার ফেস্টুন না থাকলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করবেন ২-৪ জন প্রার্থী এরকমই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন গনমাধ্যমে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের সাথে কথা বললে তারা জানান,যা হবার ৩১ মার্চ হবে, তবে দল যেভাবে সুসংগঠিত হবে সেটাই যেন হয়।যার নেতৃত্বে আমরা দলকে আরও সুসংগঠিত করতে পারবো তারাই যেন নেতৃত্বে আসে।
অপরদিকে কিভাবে নির্বাচিত হবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এ নিয়ে উপজেলা নেতাকর্মীদের মাঝে নানান প্রশ্ন।ইলেকশন নাকি সিলেকশন!
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা বলেন,যেহেতু উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি ভোটের মাধ্যমে হয়েছে,সেহেতু উপজেলার সম্মেলনও ভোটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারণ করা ভাল হবে বলে মনে করি।কারন এতে সঠিক নেতৃত্ব বাছাই হবে।
আবার অনেক নেতৃবৃন্দ বলছে,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিতর্কিত।অনেকেই অভিযোগ করে বলেন,উক্ত কমিটি গুলোতে নিজেদের সুবিধা মত করা হয়েছে।তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাকে যোগ্য বলে মনে করে তাকে সিলেকশনের মাধ্যমেই করলে ভাল হবে।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমেই সঠিক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।তাই ভোট হলেই ভালো হবে। তিনি আরো বলেন, কিছু বিতর্কিত ভোটার বানানো হয়েছে যারা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে, সেদিকে উর্ধতন  নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তালুকদার রাজীব সম্মেলনের সুষ্ঠুতা ও সফলতা কামনা করে বলেন, তৃনমুলের নেতাকর্মীদের যেন মূল্যায়ন করা হয় এবং হাইব্রিড নেতাদের বাদ দিয়ে যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রান ও সাবেক ছাত্রনেতা তাদের যেন মূল্যায়ন করা হয় এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি।সম্মেলনকে ঘিরে কোন উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই কেন এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,লোকমুখে শোনা কথা যে,উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নাকি টাঙ্গাইল থেকে করা হবে। তবে আমার মতামত, কমিটি যেভাবেই করা হোক না কেন যেন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন,আওয়ামীলীগ একটি গণতান্ত্রিক দল।সম্মেলন সুষ্ঠু ও সফল হবে এটাই আশাবাদী।ইলেকশন নাকি সিলেকশন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও কাউন্সিলরদের সাথে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন,সম্মেলন সুষ্ঠু ও সফল করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশাকরি সম্মেলনের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।

Loading