প্রিয় সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও পেছনের কিছু কথা

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৩, ২০২২

মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আমার প্রিয় সংগঠন। স্বাধীনতার পর গত প্রায় ৫ দশক ধরে আমি এ ক্লাবের স্থায়ী সদস্য। ১৯৭৯ সালে সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন পদে নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার ছিলাম। আমরা যখন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য তখন সাংবাদিকের সংখ্যা কম ছিল। সদস্য সংখ্যাও ছিল কম। তখনকার তুলনায় এখন প্রায় ১০ গুণ সদস্য সংখ্যা বেড়েছে। সুযোগ সুবিধা ও তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমানে সিনিয়র সদস্যদের জন্য আলাদা একটা রুমের ব্যবস্থা করেছে। স্বাধীনতার পূর্বে যারা এ ক্লাবের সদস্য হয়েছিলেন তাদের মধ্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক জনাব এম.এ. মালেক জীবিত রয়েছেন। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমরা যারা প্রথমে সদস্য হয়েছিলাম তাদের মধ্যে বেশি সংখ্যক বেঁচে নেই।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আমাকে সম্মান-সংবর্ধনা দিয়েছে দু’বার। ১৯৯৬ সালের ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, সাবের আহমদ আজগরীসহ আমরা যারা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাদের সকল মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেয়। ঐ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আলহাজ্ব এ.বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তখন প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন মুহাম্মদ ইদ্রিস ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।
২০০৬ সালের ১০ই অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আমি ও প্রয়াত সাংবাদিক স্বপন মহাজন সহ কয়েকজনকে কৃতি সাংবাদিক হিসেবে সংবর্ধনা দেয়। তখন আমি ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলস্ নির্বাহী পরিষদ সদস্য ছিলাম। সে সময় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কলিম সরওয়ার। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সকলের জানা দরকার। এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ বা সংক্ষিপ্ত ইতিহাস রচনার উদ্যোগ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। পিপল্স ভিউ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাহেব ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের স্মরণিকায় ‘A brief History of Chittagong Press Club ’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করেছিলেন।
তখন আমি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংষ্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। নুরুল ইসলাম সাহেব ইংরেজীতে লেখা ঐ প্রবন্ধে প্রেসক্লাবের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের অন্যতম স্পন্সর ছিলেন পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণে।
ইসলাম সাহেব তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, সেই সময়ের খ্যাতনামা সাংবাদিক, পাকিস্তান অবজারভার ও করাচীর ডন পত্রিকার চট্টগ্রাম করসপনডেন্ট ফজলুর রহমানই ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ফজলুর রহমান লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি নির্বাচন করে লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেট এর মেয়র নির্বাচিত হন এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। দাফনও সেখানে করা হয়। অন্যান্য যাঁরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা রাখেন তাঁরা ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, সাপ্তাহিক সমাজ সম্পাদক বি এ আজাদ ইসলামাবাদী, ইত্তেফাক প্রতিনিধি মঈনুল আলম, ইউনিটি পত্রিকার এস এম মোবিন, ইনসাফ’র আজিজুর রহমান, দৈনিক আজাদ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর সাধন কুমার ধর, মনিং নিউজের আবদুর রহমান সৈয়দ, ইস্টার্ন এক্সিমিনার এর. ডি. শাহ খান, ইউনিটির এস উসমানী ও মাহমুদ উল্লাহ, ইনসাফ এর জয়নুল আবেদীন, জমানা’র মাহবুব উল-আলম, ইনসাফ’র বাহাউদ্দিন, ত্রুনিকেল’র এ এম কে মাসওয়ানী, দৈনিক সংবাদের এরশাদ মজুমদার, ইউনিটির পি কে দাশগুপ্ত, আজাদীর নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ইউনিটি’র নজির আহমদ ও আতিকুল আলম।
নুরুল ইসলাম সাহেব তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছিলেন যে, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার ও প্রচেষ্টার পর ১৯৬০ খ্রী. সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলামের বদান্যতায় জামাল খান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জন্য একটি ভূমি পাওয়া যায়। ঐ বছরই তদানিন্তান পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর লেঃ জেনারেল আজম খান প্রেসক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জেলা প্রশাসন ভূমি বরাদ্দ দিলেও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমি হস্তান্তর না হওয়ায় ব্যপিষ্টদের একটি কুচক্রী অংশ এই ভূমি নিয়ে পরবর্তীতে ঝামেলা সৃষ্টির ঘৃন্য অপচেষ্টা চালায়।
১৯৯৩ সালে ওবায়দুল হক সভাপতি ও আবু সুফিয়ান সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা আইনগতভাবে নিরসন করে ভূমির অধিকার প্রেসক্লাবের জন্য নিরঙ্কুশ ও নিঃস্কন্টক করে।
প্রেসক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাহেব লিখেছিলেন যে, ১৯৬৪ সালের ২৯শে আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি স্মরণীয় দিন। ঐ দিন বিকেল ৪টায় তদানিন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফ্লিড মার্শাল আইয়ুব খান জামাল খানে নিজস্ব ভূমির উপর নির্মিত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবন উদ্বোধন করেন। সেই সময় তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভণর আবদুল মোনায়েম খান ও যোগাযোগ মন্ত্রী, চট্টগ্রামের সন্তান সুলতান আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হত। স্বাধীনতার পর ক্লাবের গঠনতন্ত্র প্রণীত হয় এবং এই গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে নুরুল ইসলাম সভাপতি ও সৈয়দ শফিকউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এটিই ছিল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রথম নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি। তখন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র করা হয়েছিল ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট অনুযায়ী। সোসাইটি এ্যাক্ট অনুযায়ী প্রণীত গঠনতন্ত্র সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিতদের আখাংকার সাথে সংগতিপূর্ণ বিবেচনা না করায় পরবর্তীতে খুব সম্ভবতঃ ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে সমাজকল্যাণ দফতর থেকে রেজিষ্ট্রেশন নেয়ার জন্য সাধারণ সভা আহ্বান করে ঐক্যমত্য পোষণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠালগ্ন ও স্বাধীনতার পর হতে এ পর্যন্ত ২২টি নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব পরিচালনা করেছে। কমিটিগুলোর মেয়াদ এবং নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা হলেন এডহক কমিটিঃ সভাপতি জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম (১৯৬২), সাধারণ সম্পাদক এম. আই করিম পি আর ও (১৯৬২-১৯৬৫) সভাপতি জেলা প্রশাসক কাজী জালাল উদ্দিন (১৯৬২-১৯৭১), সাধারন সম্পাদক আজাদী সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ (১৯৬৫-১৯৭২), নির্বাচিত কমিটিঃ সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শফিক উদ্দিন আহমদ (১৯৭২-১৯৭৫), সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক বি.এ আজাদ ইসলামাবাদী (১৯৭৫-১৯৭৯), সভাপতি বি এ আজাদ ইসলামাবাদী ও সাধারণ সম্পাদক নুর সাঈদ চৌধুরী (১৯৭৯-১৯৮৫), সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর (১৯৮৫-১৯৮৬), সভাপতি আবদুল্লাহ আল ছগীর ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমদ (১৯৮৫-১৯৮৭), সভাপতি আতাউল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন আহমদ (১৯৮৭-১৯৯১), সভাপতি আতাউল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান (১৯৯১-১৯৯৩), সভাপতি ওবায়দুল হক ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান (১৯৯৩-১৯৯৪), সভাপতি মুহাম্মদ ইদ্রিস ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী (১৯৯৫-১৯৯৬), সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী (১৯৯৭-১৯৯৮), সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল (১৯৯৯-২০০০), সভাপতি আখতার উন নবী, সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল (২০০১-২০০২)। সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক কলিম সরওয়ার (২০০৩-২০০৪), সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক কলিম সরওয়ার (২০০৫-২০০৬), সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক এজাজ ইউসুফী (২০০৭-২০০৮), সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রউফ (২০০৯-২০১০), সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রউফ (২০১১-২০১২), সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী (২০১৩-২০১৪), সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী (২০১৫-২০১৬), সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারন সম্পাদক শুকলাল দাশ (২০১৭-২০১৮), সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (২০১৯-২০২০), সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (২০২১-২০২২)। নির্বাচিত বিভিন্ন কমিটির মেয়াদে মনে রাখার মত বহু অনুষ্ঠান হয়েছে। রাজনৈতিক মত পার্থক্যের উর্ধ্বে থেকে চট্টগ্রামের সকল সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সদস্য পারস্পরিক সম্ভাব-সম্প্রীতি বজায় রেখে এ সব অনুষ্ঠান করেছেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে মিনি স্টেডিয়াম কাম অডিটরিয়াম উদ্বোধন করেন এবং অনুদান প্রদান করেন। সে সময় ক্লাবের সভাপতি ছিলেন নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বি এ আজাদ ইসলামাবাদী। বিভিন্ন সময়ে যাঁরা তথ্যমন্ত্রী ছিলেন তারা চট্টগ্রাম এলেই প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করতেন। ১৯৭৯ সালের প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে সার্কিট হাউসে দেখা করে সাংবাদিকদের আবাসন সংকট নিরসনে সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন “কোন ক্লাবকে আবাসনের জন্য ভূমি বরাদ্দ দেয়া যায় না। আপনারা চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা মিলে একটি সমবায় হাউজিং সোসাইটি করেন। ঐ সোসাইটিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা হবে”।
১৯৮৪ সালে নভেম্বর মাসে এরশাদের শাসনামলে সরকার চট্টগ্রামের ইজতিহাদ পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে পুরানো প্রেসক্লাব হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. ওবায়দুল হক এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি নুর সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এক মিছিল বের হয়। মিছিলটি জামালখান সড়ক, মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা, লালদিঘীর পাড়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী রোড, নিউ মার্কেট, মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
১৯৮৭ সালে আতাউল হাকিম সভাপতি ও নিজাম উদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবন নতুনভাবে নির্মাণের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় এবং এ লক্ষ্যে ঐক্যমত পৌছার জন্য একটি সাধারণ সভা আহ্বান করে। এ ইস্যু নিয়ে আহুত সাধারণ সভায় তিনটি মত সামনে আসে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নজির আহমদের নেতৃত্বে একটি অংশের মত ছিল, প্রেসক্লাব ভবন যেমন আছে তেমনি থাক, সদস্য সংখ্যা বাড়লে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সহ আমাদের একটা অংশের মত ছিল, সামরিক-স্বৈরশাসকের আমলে বিশাল প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের পরিবর্তে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসলে আধুনিক ভবন নির্মাণ করা যাবে। ক্ষমতাসীন ব্যবস্থাপনা কমিটির মত ছিল পুরাতন প্রেসক্লাব ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নিলেই আর্থিক সমর্থন পেতে অসুবিধা হবেনা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সে সময় প্রেসক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দশ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। অতঃপর তিনি ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। তৎকালীন সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও প্রেসক্লাবে এসে নির্মাণ কাজের জন্য আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠায় তিনি আর প্রেসক্লাবে আসতে পারেননি। ইতিমধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটি পুরাতন প্রেসক্লাব ভবন ভেঙ্গে ফেলে। তখন জামাল খান রোডে পূর্ব পার্শ্বে লিচু বাগানের উল্টোদিকে লাভলী হোটেল নামের একটি খাবার দোকানের উপরে ৩য় তলায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জন্য একটি ঘর ভাড়া নেয়। খুব সম্ভবতঃ ঐ ভবনটি ছিল খান সাহেব আবদুল হালিম উকিলের পুত্র, চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের এক সময়ের সভাপতি এন জি মাইমুদ কামাল (সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের চাচা) এর। ওখানে প্রেসক্লাবের জন্য ঘর ভাড়া নেয়ার পর আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হয়। আয়ের সকল পথ বন্ধ হয়ে যায় পুরানো প্রেসক্লাব ভবন ভাঙ্গার কারণে।
এর মধ্যে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। নির্বাচিত হয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেন। প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি অর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ১৯৯৫ সালে মুহাম্মদ ইদ্রিস সভাপতি ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে আর্থিক সংকট কাটাতে মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের মধ্যস্থতায় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে প্রেসক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করলে প্রধানমন্ত্রী প্রেসক্লাবকে পনের পক্ষ টাকা প্রদান করেন। এই কমিটি ১৯৯৬ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দেয়। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে আবু সুফিয়ান সভাপতি, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক ও জসীম চৌধুরী সবুজ কোষাধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সদস্য-সদস্যা কল্যাণ তহবিল চালু করে। এই কমিটির মেয়াদে প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (পরবর্তীতে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি) জিল্লুর রহমান। ২০০৩-২০০৪ ও ২০০৫-২০০৬ কমিটি ২টিতে আবু সুফিয়ান সভাপতি ও কলিম সরওয়ার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময় প্রেসক্লাবের নিয়মিত কাজ ছাড়াও কায়েমী স্বার্থবাদীদের কবল থেকে ক্লাব ভবনের অংশ উদ্ধার করে আয় বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২০০৭-২০০৮ মেয়াদের কমিটিতে আলী আব্বাস সভাপতি ও এজাজ ইউসুফী সাধারণ সম্পাদক থাকা সময়ে ক্লাবকে আরো সমৃদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয়। এই কমিটি উন্নয়ন তৎপরতায় বিভিন্ন দূতাবাসের সমর্থন আদায় করে। মিডিয়া সেন্টার আধুনিক ও পরিপূর্ণ করতে একটি দূতাবাস বেশ কিছু কম্পিউটার ও একটি ট্রেক্সী উপহার হিসেবে প্রদান করে ক্লাবের কাজে ব্যবহারের জন্য।
এই কমিটি সদস্য ও তাদের সন্তানদের কারিগরী ও ব্যবহারিক জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করার উদ্যোগ নেয়। কয়েকজন সদসের বাধার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। উক্ত কমিটি সৃজনশীল অনেক কাজের সূচনা করেছে। ২০০৯-২০১০ এবং ২০১১-২০১২ মেয়াদের দুটি কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আবু সুফিয়ান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাশেদ রউফ এই দুটি কমিটি ক্লাবের সদস্যদের জন্য সুখকর ছিল। রশেদ রউফ সাধারণ সম্পাদক থাকায় প্রতিটি কাজে গতি ছিল।
নিয়মিত কার্যক্রম ছাড়াও প্রত্যেক বছর বইমেলা হত। ক্লাব ম্যাগাজিনে লেখার জন্য প্রত্যেক লেখককে সম্মানী দিতেন। কমিটির সকলেই নিজ অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতেন বলেই বড়দের সম্মান, ছোটদের ¯েœহ ও জ্ঞানী-অভিজ্ঞদের কদর করতেন, মর্যাদা দিতেন। এই কমিটি সিটি কর্পোরেশনের ঋণ পরিশোধ করে দায়মুক্তির অনুষ্ঠান করে স্বাধীনতা পার্কে।
২০১৩-২০১৪ মেয়াদের কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহসিন চৌদুরী। এই কমিটির মেয়াদের ২০১৩ সালে ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উন্মোচন করেন। এই কমিটি ঢাকায় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন ও মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিকদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান করে ২৬ মার্চ ২০১৩ তািরখে। সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী সকল মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিককে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানান। ঐ চিঠিটির একটি কপি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে, যেহেতু আমাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যধাযোগ্য মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই কমিটি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করে। কমিটির পক্ষ থেকে ক্লাবের সকল স্থায়ী সদস্যকে কোর্টসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করে।
২০১৫-২০১৬ মেয়াদের কমিটিতে সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহসিন চৌধুরী। এই কমিটিও সিটি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট ঋণ পরিশোধ করে সম্পূর্ণভাবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে দায়মুক্ত করে বলে জানানো হয়। ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের কমিটিতে সভাপতি ছিলেন কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শুকলাল দাশ। এই কমিটি নিয়মিত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করেছে। উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত যে কাজটি কমিটি করেছে তা হল রোজার দিনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ক্লাবে উপস্থিত সদস্যদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা হয়। এ বিষয়ে অনেকে বিভিন্ন ধরনের কথা বললেও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ সাহসিকতার সাথে তা মোকাবেলা করে নিয়মিত ইফতার ব্যবস্থা চালু রেখেছিলেন।
২০১৯-২০২০ এবং ২০২১-২০২২ মেয়াদের কমিটির সভাপতি হলেন আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদউদ্দিন চৌধুরী। এই কমিটি দুটি নির্বাচিত হবার আগ থেকেই ক্লাব বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।
করোনা সংক্রমণ এর কারণে রুটিন মত কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করতে না পারলেও সদস্যদের করোনা পরীক্ষা, ঠিকা দেয়া, ঘরে ঘরে এবং সদস্যদের হাতে জরুরী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও এই কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম অফিস প্রধান সালাউদ্দিন রেজা, সহ সভাপতি মনজুর কাদের, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সমাজসেবক সম্পাদক আইয়ুব আলী প্রেসক্লাব সদস্যদের সার্বক্ষণিক সেবায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন ঝুঁকি নিয়ে। বর্তমান কমিটিতেও এরা কর্মকর্তা আছেন নির্বাচিত হয়ে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কর্ম তৎপরতায় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের নির্দেশে সদস্য-সদস্যদের সেবা দিতে প্রথম থেকেই অনেকেই নিযুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৭০ সাল থেকে যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিযুক্ত ছিলেন তাদের অনেকের নাম স্মরণে আছে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ থেকে নুরুল আলম নামের এক ভদ্রলোক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী ছিলেন। তিনি দৈনিক আজাদীর মুদ্রণ বিভাগেও কাজ করতেন। পাক বাহিনী প্রেসক্লাবে হানা দিলে তিনি জীবন নিয়ে হাটহাজারী নিজের বাড়ীতে চলে যান। স্বাধীনতার পর তিনি ডাক বিভাগে সরকারী চাকরীতে যোগ দেন। তিনি এখনও বেঁচে আছেন। মাহমুদুল হক একজনই তখন পিয়ন ও সিকিউরিটি হিসেবে কাজ করতেন। চট্টগ্রাম কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সেকান্দর সাহেব স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৯ সাল আমাদের কমিটির মেয়াদ পর্যন্ত খন্ডকালীন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও অফিস সেক্রেটারী ছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে তার কাজ বেড়ে যাওয়ায় তিনি অপরাগতা জানিয়ে বিদায় নেন। তখন আমরা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেই সেই সময়ের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়। কয়েকজনের ইন্টারভিউ নেওয়ার পর কর্মাস গ্র্যাজুয়েট, পাবলিক একাউনটেন্ট আহমদ হোসনকে আমরা নিয়োগ দেই। তিনি ২০১৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৩৬ বছর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। একি সাথে তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটি ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নে বহু বছর সেবা দিয়েছিলেন। তা ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার হিসাবরক্ষণ ও সরকারী অডিটেও তিনি সহযোগিতা করতেন।
১৯৮৫-১৯৮৬’র ব্যবস্থাপনা কমিটি ইবরাহিম নামের একজনকে দারোয়ান নিযুক্ত করে। পরবর্তী কমিটি তাকে বিদায় করে দেয়। তিনি এখন জীবিত নেই।
এখন যারা কর্মকর্তা কর্মচারী নিযুক্ত আছেন তারা হলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজন বড়–য়া, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, সহকারী হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা রবিউল আলম, পিয়ন শাহাদাত হোসেন (আনিস), মোহাম্মদ হারুন, বিকাশ বড়–য়া, মোহাম্মদ সেলিম, রূপন দে, আশুতোষ দে, জহিরুল ইসলাম লিফ্টম্যান কাম পিয়ন মোহাম্মদ রাশেদ উদ্দিন, ইলেকট্রেশিয়ান কাম পিয়ন সুমন দে, পিয়ন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, দারোয়ান রেজাউল করিম, মোহাম্মদ হোসেন, স্বপন দে, অভিজিত দে, স্ইুপার মিঠুন লাল, লিলিমা দাশ ও বাবুর্চি নুরুন্নবী। মোট এরা ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন প্রেসক্লাব ও ক্লাব সদস্যদের সেবায় নিয়োজিত। আমাদের সময় ছিল মাত্র ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সামনে আসছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের হীরক জয়ন্তী। বেঁচে থাকলে প্রতীক্ষায় থাকবো, তখনকার কমিটি কিভাবে হীরক জয়ন্তী উদযাপন করে তা দেখতে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত যাঁরা প্রেসক্লাবে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন-তাদের সকলের কাছে একজন প্রবীন স্থায়ী সদস্য হিসেবে কৃতজ্ঞ। যাঁরা ইন্তেকাল করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
স্থায়ী সদস্য, সম্মানপদ সদস্য, আজীবন সদস্য, দাতা সদস্য যারা বেঁচে আছেন তাদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যর মহান আল্লাহ দরবারে প্রার্থনা করি।
শেষ কথা ঃ ইতিহাস শিক্ষনীয় হয়- হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। ইতিহাসে হস্তক্ষেপ ও ইতিহাস বিকৃতি খেয়ানতের সামিল। আইয়ুব খান-মোনায়েম খানের শাসনের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। কিন্তু, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, আমাদের পূর্বসুরী নুরুল ইসলাম সাহেব লিখিতভাবে স্বীকার করে গেছেন যে, আইয়ুব খান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবন উদ্বোধন করেছিলেন ২৯শে আগস্ট, ১৯৬৪ খ্রি. সালে। তা কী আমরা অস্বীকার করতে পারব? চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা এবং পরবর্তীতে আরো কর্মঠ ও সৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি।
…………………………………………………………………………………………………………
নিবন্ধক: মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক, পাঁচ দশক ধরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য। ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিল নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, চট্টগ্রামের ইজতিহাদ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।