ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন পোস্ট

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ , জুন ২৪, ২০২০

আমার জেলে ২৭ দিন থাকা অবস্থায় এতো এতো শুভাকাঙ্ক্ষী আমার মুক্তির জন্য এতো এতো কাজ করেছেন যে, আমার উচিত প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে ফোন করে ধন্যবাদ জানানো। কিন্তু আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর এই কয়েকদিন খোজ খবর নিয়ে জানলাম এই শুভাকাঙ্ক্ষীর পরিমান এতো বেশি যে সবাইকে ফোন করা রীতিমতো অসম্ভব। তাই এই পোস্টের মাধ্যমে সবাইকে আমার ও আমার পরিবার পরিজনদের পক্ষ থেকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আর সরাসরি ফোন করতে না পারার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।

মিথ্যা মামলায় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে, বিনা দোষে মিথ্যা কথা বলে রাতের অন্ধকারে আমাকে থানায় ধরে নিয়ে সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। আমি লজ্জিত নই, তবে ব্যথিত। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার একটি অভিযোগও সত্য নয়। যদি একটি অভিযোগও কেউ সত্য প্রমাণ করতে পারে আমি জীবনে রাজনীতি ও লেখালেখি করবো না। যে ৪ টি অভিযোগে আমার নামে মামলা দায়ের করানো হয়েছে তার সবগুলোই বাংলাদেশের একাধিক স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিকে সংবাদ হয়েছে। আমি প্রতিটি অভিযোগের অসারতার প্রমাণ দিতে পারি, কিন্তু আমি জানি আপনারা আমাকে বিশ্বাস করেন। শুধু একটি অভিযোগের বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তাতেই আপনারা বুঝতে পারবেন কেন মামলা হয়েছে এবং কে সত্য এবং কে মিথ্যা বলছে।

আমার পত্রিকার বিরুদ্ধে ৪ নাম্বার অভিযোগ, “৩শ জনের নামের বিপরীতে মোবাইল নম্বর ৪টি- সারাদেশ জুড়ে সমালোচিত কে সেই মলাই চেয়ারম্যান?” এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা। অথচ, এই সংবাদটি অবশ্যই সত্য। আমার নামে যিনি মামলা দায়ের করেছে তিনি একজন সাংবাদিক এবং বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির হবিগঞ্জ প্রতিনিধি। তিনি নিজেও একই বিষয়ে নিউজ করেছেন যার শিরোনাম, ২৫শ’ টাকার নগদ সাহায্য তালিকায় একই মোবাইল নম্বর ২০০ বার! – আরটিভি, ১৬ মে ২০২০ লিংকঃ https://bit.ly/3cdvZFT

যে চেয়ারম্যানের নামে অভিযোগ একাধিক সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মামলার আসামী সেই মলাই ২০০৯ সাল থেকে মুড়িয়াউক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় এমপি ও হবিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এই যুবদল কর্মীকে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগে নিয়ে এসেছেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আবু জাহির। যুবদল থেকে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করা সেই অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের মাননীয় এমপি আবু জাহিরের হাত ধরে যোগদানের ছবি আমার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

সিলেট বিভাগের এই ধরনের যোগদানের বিষয়ে দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রচারিত হয়েছিলো যেখানে এই অভিযুক্ত মলাই চেয়ারম্যানের নাম রয়েছে; সিলেট ও ময়মনসিংহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, দাগি আসামিও আওয়ামী লীগে https://samakal.com/politics/article/19113435

আমি সংবাদ থেকে ২/৪ টি লাইন উদ্ধৃত করছি, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে এই দুই বিভাগসহ আট বিভাগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আট সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছে।”

“হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার রফিকুল ইসলাম মলাই যুবদল থেকে যোগ দেওয়ার পর ৩ নম্বর মুড়িয়াউক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।”

আমি জেলে থাকা অবস্থায় ৪ জুন ২০২০ প্রায় সকল জাতীয় দৈনিকে সংবাদ শিরোনাম হয়, “প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: ৪ মোবাইলে ৩০৬ নামের সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত” লিংকঃ https://www.banglanews24.com/national/news/bd/792226.details

আমার পত্রিকায় অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা হয়ে থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মলাই চেয়ারম্যানকে হয়তো বরখাস্ত করতো না। এর মানে দাঁড়ায় আমার পত্রিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য।

আমি সুশান্ত, অন্যায় করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম। আমি ভুল স্বীকার করে নিতাম। কিন্তু বিনা দোষে আমাকে সাজা দেয়া হলো। সত্য কী তা আপনারা হয়তো একদিন জানতে পারবেন।

যারা আমার বিরুদ্ধে নানাভাবে অপ্রয়োজনীয় অপপ্রচার করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ জানানোর নেই। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মামলার বিষয়ে সকল দায় স্বীকার করা মুচলেকা নিয়ে, আমার স্বজনদের কাছে কিছু প্রস্তাব এসেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো আমি যেন দায় স্বীকার করে মুচলেকা দেই। কিন্তু, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি। মিথ্যার সাথে আপোস করার চেয়ে আমার কাছে জেল, জুলুম বা মৃত্যু শ্রেয়।

কিছু মানুষ যখন আমার বিপক্ষে বলেছেন, তবে আমারও কিছু দোষ আছে নিশ্চয়ই! আমি চেষ্টা করবো নিজেকে সংশোধন করে নিতে। আপনারা আশির্বাদ করবেন, আমি যেন এই মিথ্যা মামলা থেকে আইনগভাবেই মুক্ত হয়ে আসবো।

মানুষ হিসেবে আমার অনেক সীমাবদ্ধতা ও ভুল রয়েছে তবে আমি অসৎ নই, আমার ক্ষমতার লোভ নেই। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগে বিশ্বাস করি। এই আদর্শ রক্ষার কারণে যদি আমার মৃত্যুও হয় তবে হাসি মুখে তা বরণ করে নিবো।

আমার প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য আপনাদের সবাইকে আবারো আমার অন্তরস্থল থেকে ধন্যবাদ।

আপনাদের বিশ্বস্ত,

সুশান্ত দাস গুপ্ত
প্রকাশক ও সম্পাদক
দৈনিক আমার হবিগঞ্জ