তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ১৪, ২০২১

‘ইসলাম বিদ্বেষ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া’র অভিযোগ করে দায়ের করা মামলায় লেখিকা তসলিমা নাসরিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট।

অভিযুক্ত অন্য দু’জন হলেন উইমেনচ্যাপ্টার ওয়েবসাইটের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুচিস্মিতা সিমন্তী।

ওই একই ওয়েবসাইটের উপদেষ্টা লীনা হককে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজমুল নিশাত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “তদন্ত করে আমরা তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছি। আর নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় একজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেটাই চার্জশিটে বলেছি। এখন আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

২০১৮ সালের এপ্রিলে মামলাটি করেছিলেন মাসিক আল বাইয়্যেনাত পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলম। তার আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, ‘‘ইসলাম বিদ্বেষ ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিলো। পুলিশ মামলায় চার্জশিট দিয়েছে, এখন আদালতে অভিযোগ গঠনসহ অন্য প্রক্রিয়া শুরু হবে।’’

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘‘প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা কাহিনী তৈরি করে এসব ব্যক্তিরা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিপ্রায়ে লিপ্ত আছে। ফেসবুকে “ধর্ষকের কাছে নারীর কোন ধর্ম নাই” শিরোনামে লেখা একটি পোস্টে তসলিমা নাসরীন পয়গম্বরদের নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন এবং তার লেখাটি উইমেন চ্যাপ্টার নামক ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশ করা হয়েছিলো।’’

আরও বলা হয়, ‘‘আসামীগণ সকলে এদেশের ধর্মপ্রাণ নারী সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করার একই সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে তাহাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে ইসলাম বিদ্বেষী এসব পোস্ট করিয়া থাকে। বাদী/সংবাদদাতা একজন ধার্মিক মুসলিম এবং আলেম হওয়ায় এসব ইসলাম বিদ্বেষী পোস্ট পড়িয়া তাহার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।’’

তবে তাসলিমা তাসরিনসহ তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যেমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।