সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে হারলেও জয়ের ধারায় ফিরে কালই পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামছে টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি দেখাবে গাজী টিভি ও টি-স্পোটর্স।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৭ উইকেটে ও ৪ রানের জয় পায় টাইগাররা। তবে তৃতীয় ম্যাচে ৫২ রানে হারতে হয় স্বাগতিকদের। তৃতীয় ম্যাচ জয়ে সিরিজে টিকে থাকার পাশাপাশি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড।

মন্থর ও টার্ন উইকেটে হঠাৎ করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেইসঙ্গে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়েছে তারা। কিন্তু শুরু থেকে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিলো টাইগাররা।

সদ্যই ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। তাই এ সিরিজেও স্পষ্টভাবেই ফেভারিট ছিলো টাইগাররা। তাছাড়া নিউজিল্যান্ড তারুণ্য নির্ভর একটি দল নিয়ে সফরে আসায় বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও বাড়িয়ে তোলে। জাতীয় দলে নিজেদের জায়গা পাকা করাই এই দলের খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য।

কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে কিউইদের পারফরম্যান্স তাদের সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে তো জয়ের পথেই ছিলো নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ বোলিংয়ে হার মানতে হয় কিউইদের। তবে তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে আধিপত্য ধরে রাখতে দেয়নি সফরকারীরা। দুর্দান্ত পারফরমেন্স প্রদর্শন করে জয় তুলে নেয় তারা। বাংলাদেশকে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান ৭৬-এ অলআউটও করেছে।

নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে জয়ের স্বাদ নেয় নিউজিল্যান্ড। এখন এটি স্পষ্ট যে, জয়ের ধারায় ফিরতে হলে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্সে আরও উন্নতি ঘটাতে হবে।

আগের ম্যাচটি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জন্য স্মরণীয় ছিলো। শততম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু মাহমুদুল্লাহর শততম ম্যাচে হারের স্বাদ পায় টাইগাররা। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় গত ম্যাচ হারলেও, জয়ের ধারায় ফিরে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।

টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের বড় কোনো জুটি ছিলো না এবং আশা করছি কঠিনভাবে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। এখনো দুই ম্যাচ বাকী এবং আশা করছি পরের ম্যাচে আমরা জিতবো এবং সিরিজও জয় করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ১৩০ রানে আটকে রাখতে দারুণ কাজ করেছে বোলাররা। আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম, আমরা দ্রুত উইকেট হারিয়ে আর সেই অবস্থা থেকে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারিনি।’

তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা ছিলো সাকিবের ফর্ম। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রান ও ৬শ উইকেট শিকারের দ্বারপ্রান্তে তিনি। আর মাত্র দুই উইকেট নিলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সর্বোচ্চ শিকারী হবেন সাকিব। এতে বর্তমানে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার ১০৭ উইকেটকে টপকে যাবেন তিনি।

শেষ ম্যাচে উইকেটশুন্য ছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতেও ফিরেছেন শুন্য রানেই। ফিল্ডিংয়ে ক্যাচও মিস করেন তিনি। বাংলাদেশকে জয়ের ট্রাকে ফিরতে সাকিবের পারফরমেন্স সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ যেখানে জয়ের ধারায় ফিরে সিরিজ জিততে চায়, সেখানে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় ম্যাচে ষষ্ঠ উইকেটে টম ব্লান্ডেলের সঙ্গে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন হেনরি নিকোলস। এই জুটিটি দলের জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখে।

নিকোলস বলেন, ‘এটি ভালো জয় ছিলো এবং সিরিজে ঠিকে থাকাটা আনন্দের। একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিটি খেলায় উন্নতি করছি। প্রতিটি খেলায় কন্ডিশনের বৈচিত্র্য ছিলো, যা ছিলো চ্যালেঞ্জিং। ছেলেরা শিখছে, যা খুবই ভালো লাগছে। অধিনায়ক হিসাবে টম (লাথাম) ছেলেদের বলেছে, কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমাদের উন্নতির উপায় খুঁজতে হবে। আমরা যদি প্রতিটি ম্যাচে উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে পারি, তবে ফলাফল আসবে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হবে। এটা তাদের জন্যও কঠিন হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি এখানে এর আগে অস্ট্রেলিয়া এসেছে এবং তারা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জানতাম বাংলাদেশ আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। আমাদের স্পিনাররা জ্বলে উঠতে পারলেই, আমরা তাদের চাপে রাখতে পারি। নিজেদের ছোট ছোট কাজগুলো ভালোভাবে করতে পারলে সাফল্য আসবেই আমরা জানতাম।’

এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। কিউইদের জয় ১১টি। বাংলাদেশের জয় ২টিতে। এই দুই জয়ই চলমান সিরিজে পেয়েছে টাইগাররা।

আদতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের পারফরমেন্স আশানুরুপ নয়। এ পর্যন্ত ১১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ৪০ জয় পেয়েছে টাইগাররা। হেরেছে ৬৯ ম্যাচে। ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

বাংলাদেশ একাদশ (সম্ভাব্য): মোহাম্মদ নাঈম শেখ, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), আফিফ হোসাইন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ (সম্ভাব্য): রাচিন রবীন্দ্র, ফিন অ্যালেন, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, উইল ইয়ং, টম ব্লানডেল, হেনরি নিকোলস, কোল ম্যাককঞ্চি, এজাজ প্যাটেল, স্কট কুজ্ঞেলেইন, জ্যাকব ডাফি ও ম্যাট হেনরি।