আশুলিয়ায় সাবেক স্বামীর হাতেই খুন হয় লাখি, নেপথ্যে দ্বিতীয় বিয়ে

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ , জুন ১৩, ২০২১

আশুলিয়ায় সাবেক স্বামীর হাতেই খুন হয় লাখি আক্তার, নেপথ্যে দ্বিতীয় বিয়ে। সাবেক স্বামী-শ্বশুরসহ গ্রেফতার ৩ আসামী।

আশুলিয়ায় লাখি আক্তার নামে নারীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সাবেক স্বামী-শ্বশুরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

রোববার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান। এর আগে শনিবার রাতে তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাটি মসজিদ এলাকার রাসেলের বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেন। রাতেই তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেফতারকৃত হলেন-ঢাকা জেলার মো. রফিকের ছেলে মোঃজুয়েল (৩০), আফাজউদ্দিনের ছেলে মো. রফিক (৫৭) ও মো. ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ বাচ্চু মিয়া (২৯)। জুয়েল ও রফিক সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।

র‌্যাব -১ জানায়,লাখি আক্তার হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রধান আসামী জুয়েল(৩০) তার প্রথম স্বামী। জুয়েল মাদকসেবী ও চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। এছাড়াও সে বিভিন্ন সময় লাখি আক্তারের উপর শারীরিক নির্যাতন চালাত। পরবর্তীতে বিগত ০৪ বছর পূর্বে লাখির সাথে প্রধান আসামী জুয়েলের সাথে তালাক হয়। তালাকের পরেও লাখি আক্তারের বাসায় গিয়ে পূনরায় স্ত্রী হিসেবে নিতে চায়। জুয়েলের সাথে পূনরায় বিয়ে দিতে রাজি না হলে, প্রধান আসামী তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গত ০২ মে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর এক ব্যক্তির সাথে লাখি আক্তারের বিয়ে হয়। গত ৮ই জুন জুয়েল তার বাবা রফিক ও বন্ধু বাচ্চু মিয়ার প্ররোচনায় লাখি আক্তারকে কৌশলে আশুলিয়া থানাধীন সুবন্দী এলাকায় কাঠের বাগানের ভিতর নিয়ে যায়।পরিকল্পিতভাবে জুয়েল ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

র‌্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকেই খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে ওই ৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন সকালে আশুলিয়ার সুবন্দী এলাকায় একটি জঙ্গলে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানতে নিহতের নাম লাখি আক্তার (২৯)। তিনি আশুলিয়ার গোয়াইলবাড়ি কোনা পাড়া এলাকার মজিবর রহমানের মেয়ে।

পরবর্তীতে নিহতের বাবা গত ১০ জুন আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলা রুজু করেন।