সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ , মে ১৩, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করতে বলেন।

ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানান জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেল, কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহীদের কথাও শেখ হাসিনা স্মরণ করেন এই দিনে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ নামক এক মরণঘাতী ব্যাধি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ভাইরাস একদিকে যেমন অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিসাধন করছে মানুষের জীবন-জীবিকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই ভাইরাস।

তিনি বলেন, মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। জনসমাগম এড়াতে না পারলে এ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। সে কারণে ‘কষ্ট হবে জেনেও’ সরকার বাধ্য হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনি এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে এবারও আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। আমরা ঈদ উদযাপন করব, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোনভাবেই এই ঈদ উদযাপন যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপলক্ষ হয়ে না উঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এর ফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়াপ্রতিবেশিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারব।