করোনায় বিধ্বস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ও জন মনে জিজ্ঞাসাঃ

সামছুদ্দোহা ফরিদ সামছুদ্দোহা ফরিদ

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ , মার্চ ১৭, ২০২১

দোদুল্যমান শিক্ষার্থীরা বার বার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে হতাশায় ভূগছে। অভিভাকদের দুশ্চিন্তা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।
থমকে যাওয়া পৃথিবীতে একক ছক্কা মারছে নিয়তি। কালের গহিনে হারাচ্ছে তিক্ত ইতিহাস, আঁটকে আছে কারো কারো কষ্ট বুকের ভেতরে, জমাট বাঁধা বরফের ন্যায়। তার মাঝেও মানুষের অনৈতিকতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ, বিধ্বস্ত আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা। করোনা তুমি কাউকে করেছো ঋণী, কাউকে করেছো ধনী।
গুটা পৃথিবীটাই নিয়তির কাছে সবকিছুই বন্ধী। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। শিক্ষার অবকাঠামো নিয়ে পূর্ব হতে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও করোনা অন্তর্বর্তীকালীন তা বিপর্যয়ের অন্য ধাপ। বিধাতার উপরই গরিবের বিশ্বাস। বিত্তশালী হওয়া ছাড়া ভালো পড়াশোনা গরিবদের জন্য একেবারেই স্বপ্নাতীত। সাধারণ পড়াশোনায় সাধারণ চাকুরীর আশা তাদের স্বপ্নেও জুটেনা। আর পাস কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন তো আছেই। বৈষম্য গুচাতে শিক্ষার্থীরা যেখানে দিশেহারা, জীবন গঠন তো অনেক দূর। চাকুরীর বয়স ত্রিশ করতে হবে এ কথা না বলে, বলা হোক সময় মত চাকুরীর ব্যবস্থার কথা। আর সেসন জট তো আরেক তিক্ত কথা। এ লস কে চাকুরীর প্রস্তুতি হিসেবে দেয়া যেতে পারে। জীবন তো মানুষের ক্ষণস্থায়ী সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করি। এভাবে সুযোগ এবং অর্থাভাবে কত মেধা তালিকাই আসে না। কন্যাদায়গ্রস্ত মাতা পিতার নাম শুনেছি কিন্তু পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা-মাতার নাম কখনো শুনিনি। কন্যার বিয়ের জন্য যেমন যৌতুক দিতে হয় তেমনি ছেলের চাকুরীর জন্য ঘুষের টাকার জন্য পিতামাতাকে ভাবতে হয়। তার পরেও কেরানিগিরি, পিয়ন ইত্যাদি। দরিদ্র পিতা-মাতা বাচ্চাদের অল্প পড়াশোনা পড়িয়ে ছেলেদের শিশু শ্রমে আর মেয়েদের বাল্যবিবাহের দিকে ধাবিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে এটা আরো বেগমান হয়েছে।হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থী। এ পরিস্থিতিতে দু মূঠো ভাতের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে গরিব শিক্ষার্থীর পিতা মাতা। করোনা করুনা না করলেও অনেকের জন্য সাধুবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার প্রমাণ সারা বাংলা তথা সারা বিশ্ব। জনমনে একটি প্রশ্ন, কবে খুলবে এই স্কুল-কলেজ, কবেই বা আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যাবে,কলেজে যাবে। ওরা তো সব গোল্লায় যাচ্ছে।কেবল স্কুল কেন বন্ধ। জন মনে গুঞ্জণ আর দীর্ঘ শ্বাস, আমরা এখন কী করবো। আমাদের সন্তানদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা ছেলেদের অযথা আড্ডা,বাজে কাজ হতে বিরত রাখতে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, কমে যাচ্ছে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এটা শুধু করোনাই দায়ী নয়,আমাদের বাস্তবতা ও দায়ী।আর এ সুযোগে লোফে নিচ্ছে অভাবী নিম্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে উপার্জনে লাগিয়ে। বড় কথা হল বাস্তবতা, বাস্তবতার কাছে সবাই পরাজিত। তাই বাস্তবমুখী শিক্ষাই হোক আজকের শ্লোগান। অবশ্য এ লক্ষ্যে সরকার কাজ চালাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী এ ঘোর অন্ধকার কেটে যাবে, করোনার প্রভাব হয়ত থাকবে না, আমাদের ও তাই প্রার্থণা। কিন্তু পিছিয়ে পড়া শিক্ষা, আবারো সামনে এগুতে আরো কিছু বছর গুণতে হবে। এ বিপদে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থণা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।