রামগড়ে ডায়েরীর পাতায় চিরকুট লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

বাহার উদ্দিন বাহার উদ্দিন

রামগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ , মার্চ ৬, ২০২১

“আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই। তাই আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ডারউইন বলেছিলেন ‘Survival for fittest. but i not even fit’, আমার জন্য কেউ কখনো যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে মাফ করে দিয়েন।আম্মু আমাকে মাফ করে দিয়েন। লিমনের (ছোট ভাই) খেয়াল রাখিয়েন। আব্বু আমাকে সফল করার জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন। আমি পারিনি। তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এ দুনিয়া আমার জন্য না। পারলে সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। বিদায়।” এই চিরকুট লিখে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’ করেছে।পুলিশ চিরকুটটি জব্দ করেছে। শনিবার (৬মার্চ) রামগড় পৌরসভার সোনাইপুল এলাকায় নিজ বাসায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন সে। মৃত শিক্ষার্থীর নাম নাইমুল হাসান মিশন (২১)।তাঁর বাবা মো. কামাল হোসেন সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় নাইমুল।
জানা যায়, নাইমুল হাসান মিশন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।এস এস সি তে গোলডেন A + এইচ এস সিতে A + পেয়েছিল।বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে অধ্যায়নরত।
তাঁর ছোট ভাই লিমন জানান, প্রতিদিনের মতই বন্ধুদের সাথে গল্প গুজব শেষে রাতে বাসায় ফিরে। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিজ রুমে শুয়ে যায়। সকালে মা ফজরের নামাজ পড়তে ডাকতে গিয়ে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ পায়।বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করার পর ভিতর থেকে জবাব না দেওয়ায় মা আমাকে ডাকলে আমি এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ভাইকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি।
বন্ধু,আনোয়র হোসেন রনি বলেন, ‘নাইমুল দুইবার সেনাবাহিনীর অফিসার পদে এবং মেডিকেলে পরিক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হতে পারে নি।এই নিয়ে তার মধ্যে হতাশা কাজ করছিল।
তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় এখন শোকের মাতম বইছে। এভাবে সে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে ভাবতেই পারিনি।
রামগড় থানার ওসি( তদন্ত) মনির হোসেন আত্মহত্যা বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন,আত্মহত্যার কারণ জানা যায় নি। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।