ত্রিশালে পৃথক ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৪

ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ , মার্চ ৪, ২০২১

ময়মনসিংহের বগারবাজার এলাকায় একটি কারখানার সেপটিক ট্যাঙ্কে শিশুসন্তানকে পড়ে যাওয়া দেখে তাকে উদ্ধার করতে নামেন মা। পরে তারা উঠে না আসায় সেপটিক ট্যাঙ্কে নামেন এক নিরাপত্তাকর্মী। তাদের তিনজনের কেউ উঠে না আসায় শ্রমিকরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দল এসে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস অফিস সূত্র জানায়, বুধবার বিকালে উপজেলার বগারবাজার এলাকায় প্রভিটা ফিডের বয়লারে পাশে খেলতে গিয়ে রহিত বাপ্পী (৩) নামে এক শিশু সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রথমে তার মা শ্রী মতি রুলি (৩০) এবং পরে ফিড কারখানার কর্মচারী হৃদয় (২২) সেপটিক ট্যাংকে আটকা পড়ে। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

রুলি বাগচিদের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুরপাড় এলাকায়। প্রভিটা ফিডের কারখানায় রুলি ও হৃদয়  কাজ করতেন।

ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিস অফিসের স্টেশন অফিসার মুনিম সারোয়ার জানান, ঘটনার পরপরই ভালুকা ও ত্রিশালের দুটি ইউনিট উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে মৃত অবস্থায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ভালুকা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভালুকা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশ তিনটি উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মনিরুজ্জামান রুবেল (৩০) নামে এক যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সে তার সন্তানকে বাঁচিয়ে নিজে মারা গেছেন। বুধবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা ডিগ্রী কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, রুবেল মোটরসাইকেলে চেপে অফিসে যাওয়ার সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেল চালক মামুন, রুবেল ও তার শিশু সন্তান লিয়াম। পেছন থেকে আসা আরেকটি বাস আসতে দেখে শিশু সন্তান লিয়ামকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে পারলেও নিজে সরে যেতে পারেননি রুবেল। তার শরীরের ওপর দিয়েই চলে যায় দূর পাল্লার বাসটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল। তিনি ত্রিশাল উপজেলার বাগান টানপাড়া গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে।