মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ , মার্চ ২, ২০২১

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গণতন্ত্রের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালানোয় নেইপিদোকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। নিন্দা জানাচ্ছে ব্রিটেন, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এ অবস্থায় দেশটিতে বিক্ষোভ এখনও চলছে। আর প্রথমবারের মতো ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন অং সান সু চি।

সোমবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকী বলেন, আমরা বারেবারে সতর্ক করছি মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে। তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে হামলা করে আরও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিক্ষোভকারীদের জীবন কেড়ে নেয়ার সাজা তাদের পেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠিন কি ব্যবস্থা নিতে পারে তা নিয়ে কাজ করছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ মার্চেই মিয়ানমারের সংকট নিয়ে কথা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটিতে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কিন্তু রাশিয়া ও চীন এক্ষেত্রে বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিয়ানমারের এ কার্যক্রমে নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন, জার্মানিসহ আরও অন্যান্য দেশ।

বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ মিয়ানমার এখন সন্তান হারানো মায়েদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানহারা এক মা জানান, গণতন্ত্রের জন্য মেয়ের জীবন উৎসর্গ করতে হবে তা দুঃস্বপ্নেও কখনও ভাবেননি।

রোববার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যারা মারা গেছেন তাদের কারো জানাজা শেষে কবর আবার কারো সম্পন্ন হয়েছে শেষকৃত্য। এ অবস্থায় দেশটিতে বিক্ষোভ আরও প্রবল বেগে চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। স্বৈরাচার সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

যদিও বিক্ষোভ দমাতে দমন-পীড়ন জারি রেখেছে জান্তা সরকার। সবশেষ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করা হয়। এর মাধ্যমে দেশটির সংবাদ প্রচার ব্যাহত করতে চায় সামরিক বাহিনী। আর আন্দোলনকারীদের প্রতিনিয়তই ধরপাকড় করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আদালতে প্রথমবারের মতো হাজিরা দিয়েছেন অং সান সু চি। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আর আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে মামলার শুনানি। সার্বিক শুনানি শেষে অন্তত দুই বছরের জেল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় একমাস ধরে বাড়াবাড়ি করতে থাকা সামরিক সরকারকে সময়মতো উপযুক্ত জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।