৬ দফা দাবি-আমাদের মুক্তির সনদ

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ , জুন ৭, ২০২০

মো.আলী আশরাফ মোল্লা

আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। বাঙালি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং তাৎপর্যময় দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ রাজত্ব শেষে পাকিস্তান নামের একটি রাষ্ট্রের জম্ম হয়। পূর্ব পাকিস্তান (পরে বাংলাদেশ) জনসংখ্যার দিক থেকে এবং রপ্তানি আয়ের দিক থেকে ও সংখ্যাগরিষ্টতা থাজা সত্ত্বেও তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তান অন্যায়, অন্যায্য আচরণ করতো। পাকিস্তানের শাসন শোষণ এর বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ক্রমান্বয়ে আন্দোলনের দিকেই ধীরে ধীরে সোচ্চার হচ্ছিলেন।
১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এর পূর্বে তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোরে পৌছান। আর ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ৬ দফা দাবি পেশ করেন। আর এর ফলে ৬ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু কে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। যার দরুন শেখ মুজিবুর রহমান ৬ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলন নিজেই বর্জন করেন। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন আরো জোরদার হতে থাকে। বাঙালি জাতির জন্য এই আন্দোলন এতই তাৎপর্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ যে, একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ও বলা হয়।

বছরের পর বছর পশ্চিম পাকিস্তান কতৃর্ক পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভিত্তিতে ক্রমাগত বেষ্যমের শিকার হওয়ায় গুরুতর আন্দোলনের দিকেই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে ধাবিত হচ্ছিল। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত হয়ে থাক। কিন্তু এবছর বৈশ্বিক মহামারী কোভীড ১৯ এর জন্য তা পালন সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ আন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা শান্তি পূর্ণ হরতালে পুলিশ ও ইপিআর অর্তকিতভাবে গুলিবর্ষণ করেন। আর তাদের গুলিতে ঢাকা, টঙ্গী এবং নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক, শামসুল হক এবং মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। আর এর মধ্যে ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ হন সিলেটের মনু মিয়া।

৬ দফা দাবিগুলো ছিল নিম্ন রুপ।

১। শাসন তান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩। মুদ্রা বা অর্থ সম্বন্বীয় ক্ষমতা।
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্বীয় ক্ষমতা।
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বে ৬ দফার প্রতি বাঙালি জাতির অকুন্ঠ সমর্থনে রচতি হয় স্বাধীনতার রুপরেখা। আর এই ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই রচিত হয় আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের স্বাধীনতার বীজ। ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত রুপ নেয়। ১৯৬৯ গণ অভ্যুথান, ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচন,সর্বোপরি১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বিশ্বের মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা খোচিত নতুন সূর্যোদয় হয়। স্বাধীন সার্বভোম একটি রাষ্ট্র হয়। নাম হয় তার বাংলাদেশ।

লেখকঃ কলামিস্ট,সংগঠক এবং পুলিশ কর্মকর্তা।