আশুলিয়ায় এক টিসি ৫০ হাজার, বিপাকে শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৩, ২০২১

গার্মেন্টস শ্রমিক মায়ের কাছে মেয়ের ৮ম শ্রেণির টিসি’র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার এ কে মডেল স্কুল। এত টাকা দিতে অপারগতা জানালে স্কুলছাত্রীর মা জাহানারা বেগমকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক রশিদ হোসেন হেনস্তা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (৩ জানুয়ারি) সকালে এ বিষয়ে সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী জান্নাতুলের মা ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভাব-অনটনের কারণে বর্তমানে মেয়েকে এই স্কুলে আর পড়াতে পারছে না জান্নাতুলের পরিবার। তাই গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার সরকারি একটি স্কুলে ভর্তি করার জন্য বর্তমান স্কুল থেকে টিসি চাওয়া হয়। কিন্তু টিসি দিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক রশিদ হোসেন। শুধু ৫০ হাজার টাকাই নয়, করোনাকালীন ১০ মাসের ফি ও দাবি করা হয়েছে।

জাহানারা বেগম বলেন, আমার স্বামী হকার, আর আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি। করোনার সময়ে আয় কমে যাওয়ায় আমি আর এখন এই স্কুলে মেয়েকে পড়াতে পারছি না। তাই গ্রামের বাড়িতে সরকারি স্কুলে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য একে মডেল স্কুলে টিসি নিতে গেলে স্কুলের মালিক রশিদ হোসেন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কেন এত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে আমাকে গালিগালাজ করে রশিদ হোসেন। এ কারণে আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রশিদ হোসেন ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমাদের স্কুল থেকে আসলে টিসি দেওয়া হয় না। আমরা যে স্কুলের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করি সেখান থেকে টিসি এনে দিতে হয়। ওই স্কুলেও আমাদের টাকা দিতে হয়। এ কারণে স্কুলের ১০ মাসের ফিসহ টিসি বাবদ ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।

সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুনাহার বলেন, ওই স্কুলের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। এসব বিষয়ে ইউএনও মহোদয় চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আমার কাছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছি।