নবাবগঞ্জে ফের প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরি

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামে ফের দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রাতের কোন একসময় এ ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত রোববার রাতে একই গ্রামের আরেকটি মন্দিরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনুপম দত্ত নিপু জানান, হরিষকুল গ্রামের ডা. গোবিন্দ পালের বাড়ি ‘কালিমন্দির’ ও গুরুপদ পালের বাড়ির ‘শীতলা মন্দিরে’ ভাঙচুর ও প্রতিমা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা শীতলা মন্দিরের ‘শীতলা’ প্রতিমাটির হাত ভেঙে ফেলে এবং পাশের কালিমন্দির থেকে পাথরের একটি গোপালের মূর্তি এবং একটি মাটির মূর্তি চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে গত রোববার রাতে একই গ্রামের রাধাগোবিন্দ পালপাড়া মন্দিরের গৌরনিতাইর প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং ওই মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের প্রতিমার মুখ আগুন দিয়ে ঝলসে দেয় দুর্বৃত্তরা। চুরি করে নিয়ে যায় প্রতিমার কপালে থাকা দুটি টিপ।

একের পর এক এমন ঘটনায় হরিষকুল গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ ও দোহারের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক অমিতাভ পাল অপু বলেন, চুরি বা পরিকল্পিত হামলা যেটাই হোক প্রশাসনের উচিত ঘটনার কারণ উদঘাটন করে এবং দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। এদের চিহ্নিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

হরিষকুলের দুটি মন্দির পরিদর্শন করে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চুরির উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে পরপর ঘটে যাওয়া তিনটি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত রোববারের ঘটনায় মামলা হয়েছে নবাবগঞ্জ থানায়। মঙ্গলবার রাতের ঘটনায়ও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।