চট্টগ্রামে বাড়ছে ছিনতাইকারী চক্র

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৫, ২০২০

চট্টগ্রামে গত এক দশকে ছিনতাইর ঘটনা কয়েক হাজার। এমন উচ্চহারের কারণ, ছিনতাইকারীরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কারাগারে গেলে সেখানে বসেই তৈরি করে নতুন চক্র। এভাবেই নগরীতে বাড়তে থাকে ছিনতাইকারী গ্রুপ। সর্বশেষ পুলিশের হাতে একটি ছিনতাইকারী দল ধরা পড়লে এসব তথ্য উঠে আসে।

একটি ছিনতাইকারী দলের নেতা মোস্তাকিন হোসেন মিঠু। তার নেতৃত্বেই গত ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে চলছে সিএনজি অটোরিক্সা দিয়ে ছিনতাই-রাহাজানি। প্রায় প্রতিদিনই এই চক্রের শিকার হয় সিএনজি অটোরিক্সা আরোহীসহ পথচারীরা। এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

সিএমপির কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, পেছনে থেকে বাকি সদস্যরা সিএনজিতে উঠে এবং চলন্ত অবস্থায় ছিনতাই করে। এই ছিনতাই করতে গিয়ে তারা যাত্রীদের প্রচণ্ড মারধর করে, অনেক সময় এমনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে শ্বাসরোধ হয়ে যে কেউ মারা যেতে পারে।

মিঠু জেলে গেছে অন্তত ৮ বার। সম্প্রতি আটক হয়েছে কয়েক ছিনতাইকারী। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ছোটখাট মামলায় জেলে গেলে সেখানেই তাদের ছিনতাইয়ের হাতখড়ি হয়। জেল থেকে বের হয়ে প্রতিবারই নতুন দল গঠন করে মিঠু।

আটক ছিনতাইকারীরা জানায়, মিঠু ভাই জেলখানা থেকে বের হয়ে উনি আমাকে এ প্রস্তাবটা করে যে, তোমার গাড়ি নিয়ে আসিও আমরা ছিনতাইর ডিউটি করবো। অন্য আরেকজন জানায়, সাইড করার পর আমরা পেছনের সিএনজি থেকে সামনের সিএনজিতে আসি। তারপর যাত্রীর গাড়িতে উঠে গিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে থাকি।

সিএমপি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) নোবেল চাকমা বলেন, অতীতের এমন অনেক রেকর্ড আছে। বড় ক্রিমিনালের সাথে জেলখানায় দেখা হয় এবং আরও বড় কিছু করার জন্য তাদের কাছ থেকে কৌশল রপ্ত করে। জেল থেকে বের হয়ে আবারও একই ধরনের ক্রাইম করে। ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে এরা যুক্ত হয়ে পরে।

মিঠুসহ সকলের বিরুদ্ধেই ৫ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে। এবার আরও ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।