ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন স্থাপন কাজের উদ্বোধন

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৩, ২০২০

পার্বতীপুরের ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ উপলক্ষে প্রকল্পের ট্যাপ অব পয়েন্ট উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের সোনাপুকুরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (সচিব) মোঃ আবু বকর ছিদ্দীক উপস্থিত থেকে কাজের উদ্বোধন করেন। বক্তব্য রাখেন- বিপিসি’র পরিচালক (অপারেশন) মেহদী হাসান, পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) খন্দকার মোঃ নাহিদ হাসান, দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মোঃ মাহফুজুল আলম, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাশিদ কায়সার রিয়াদ, পার্বতীপুর পৌর মেয়র এজেডএম মেনহাজুল হক, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ টিপু সুলতান, নুমালীগড় রিফাইনারী লিমিটেডের (ইন্ডিয়া) কান্ট্্ির ম্যানেজার গৎ.জধহমশরংধহ কযড়হড়রিৎ সহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান (সচিব) মোঃ আবু বকর ছিদ্দীক বলেন- ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ধারণ ক্ষমতা ১৫ হাজার মে.টন থেকে ৪৩ হাজার ৮০০ মে.টনে উন্নীত হবে এবং ভারত থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে পার্বতীপুর রেলহেড পিওএল ডিপোতে জ¦ালানী তেল (ডিজেল) চলে আসবে। আর এখান থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলায় তা সরবরাহ করা হবে। এতে করে একদিকে সময় লাগবে কম, অপরদিকে পরিবহন ব্যয় ও সিস্টেমলস অনেক কমে যাবে। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় বিদেশ থেকে জ¦ালানী তেল আমদানী করা হয় এতে করে তা পার্বতীপুরে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। বিদেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন খরচ হয় ৩ ডলারের মত। সেই তেল চট্টগ্রামে শোধন করে সড়কপথে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেল পরিবহনে খরচ হয় ব্যারেল প্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার। ফলে পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ডলার। আর ভারত থেকে পাইপলাইনে পরিশোধিত তেল এনে দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করতে পরিবহন ব্যয় হবে সাড়ে ৫ ডলারের মত বলে তিনি জানান।
১৩১.৫ কিলোমিটার ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইনের মধ্যে শিলিগুড়ি রেল টার্মিনাল থেকে ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশে ১২৬.১৫ কিলোমিটার (পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা সীমান্ত দিয়ে নিলফামারী হয়ে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো পর্যন্ত) এবং পাইপলাইনের ব্যাস হবে ১০ ইঞ্জি। প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন ৩৪৬ কোটি রুপি এবং বাংলাদেশের অর্থায়ন ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে আড়াই বছর (জানুয়ারী ২০২০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত)। কাজের মধ্যে রয়েছে ১৩১.৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণ, পার্বতীপুরে নতুন রিসিপ্ট টার্মিনালের জন্য ৬ টি ট্যাংক নির্মাণ। যার প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা হবে ৪ হাজার ৮০০ মে.টন। প্রকল্পের ট্যাপ অব পয়েন্ট পার্বতীপুরের সোনাপুকুর হতে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার ৮ ইঞ্জি ব্যাসের ভূগর্ভস্থ পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন নির্মাণ।ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অংশের পঞ্চগড় জেলায় ৮২.১৭ কিলোমিটার, দিনাজপুর জেলায় ৩৫.৫ কিলোমিটার এবং নীলফামারী জেলায় ৯ কিলোমিটার ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিপিসি’ পক্ষে মেঘনা পেট্রোনিয়াম লিমিটেডের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাদেশ অংশে প্রথম পর্যায়ের ৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজটি করছে ‘দিপন গ্যাস’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো ও ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনালে ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফেন্ডসশীপ পাইপলাইন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন স্থাপন করেন ।