নিউজ ৭১ অনলাইন এ সংবাদ প্রকাশ

সিলেটে বৃদ্ধ মনাইকে পাগল সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ২, ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা: চার মাস ধরে বড় ভাইকে পাগল সাজিয়ে মানসিক হাসপাতাল ভর্তি করে রেখে তার বিরুদ্ধেআনিত একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে বৃদ্ধ মনাই এর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে।

সিলেটের মেন্দিবাগ নিবাসী বৃদ্ধ মনাই মিয়ার প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য তার ভাইয়েরা তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল। যার কারনে তার ছোট দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৭/১১/২০১৯ তারিখে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করে। একথা জানতে পেরে তার আপন ছোট ভাই মখলেস মিয়া, মুহিন মিঁয়া ও আত্মীয়স্বজন মিলে বৃদ্ধ মনাই এর উপর হামলা চালায় । তখন আত্মরক্ষার্থে মনাই মিয়া মোখলেছ মিয়াকে আঘাত করলে সে সামান্য আহত হয়। একদিন হসপিটালে থেকে মখলেস মিয়াঁ মনাই মিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালি থানায় একটি এজাহার দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে বৃদ্ধ মানাইকে পুলিশ আটক করে। এক মাস জেল খাটার পর সে মনাই জামিনে মুক্তি পায়।
জেল থেকে মুক্ত হওয়ায় পর বৃদ্ব মনাইকে একটি গৃহে বন্দী রেখে পায়ে শিকল বেঁধে সকাল-দুপুর নির্যাতন করতে থাকে তার ভাইয়েরা। এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন নিউজ ৭১ এ ছাপা হলে তড়িত গতিতে বৃদ্ধ মনাইকে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ তার ভাইয়েরা তাকে রাতের অন্ধকারে সুরমা মাইন্ড হসপিটালে ভর্তি করে।

সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষকে চার মাস থেকে হসপিটালে অর্থের বিনিময়ে ভর্তি রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জনমনে প্রশ্ন, মনাই যদি পাগল হয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে মামলা কেন? কেন থাকে হসপিটালে ভর্তি রেখে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়? এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন,
মনাই হসপিটালে থাকাকালে তার মা মারা যায়। তাকে হসপিটাল থেকে এক নজর মায়ের মুখ দেখতে আনলেও তাকে জানাযায় শরিক হতে দেয়া হয়নি। বৃদ্ধ মনাইকে বিভিন্ন নির্যাতন এবং হয়রানি করে তার ভাইয়েরাও কতিপয় আত্মীয়-স্বজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

একদিকে বয়োবৃদ্ধ এই ব্যক্তি কে পাগল সাজানোর পাঁয়তারা অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে সুধীমহল মনে করেন।
চাঁদাবাজি, নারী ব্যবসা, মাদক ব্যবসার সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। অভিযোগ তুলেছেন রাজনীতিতে তারই আদর্শে চলার পথের সঙ্গীরা। তবে বেশির ভাগই মুখ খুলতে পারেন না ভয়ে। সালেহ সেলিম শুধু বিত্তশালীদের জন্য আতঙ্ক নন, আতঙ্ক স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যও। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তার বাহিনী। তার প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা ছিনতাইকারীরা কেড়ে নেয় দিনমজুরের সারা দিনের আয়। তীর খেলার ফাঁদ পেতে সর্বস্বান্ত করেন স্বল্পবিত্তের মানুষদের। বিত্তশালীদের হয়তো বিচার দেওয়ার জায়গা থাকে। রাজনীতিবিদরা সাহসী হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর করার কিছু থাকে না। আর নিজের অজান্তেই মনের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে অভিশাপ। সে অভিশাপ সালেহ সেলিমের জন্য বয়ে নিয়ে আসেন তার সেনানীরা। এদের মধ্যে এইচ আর সুমন, নিয়াজ বক্স আছেন কালেকশনের দায়িত্বে, মাদক ব্যবসা দেখভাল করেন চঞ্চল। মিন্নত আলী তীর খেলার এজেন্ট, সিএনজি শাহীন, সাব এজেন্ট আরজু।

সালেহ আহমদ সেলিম পেশায় আইনজীবী। তার এ পেশাটিকে তিনি তার এলাকাবাসীর উপকারে প্রয়োগ ঘটাতে পারতেন। তবে তিনি এ পেশাটিকে শুধু নিজের আখের ঘুচানোর কাজেই ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে আইনজীবী পরিচয়টা তিনি একটা অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করছেন। আইনের ফাঁক খুঁজে সে ফাঁকে ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেক কিছুই তিনি হাসিল করেছেন। আর মামলার খেলা খেলে চাপে ফেলেন প্রতিপক্ষকে। যারা তার কথামতো চলেন না তারাই হন সে মামলার আসামি। আর বাদি হন তার কাছের মানুষরা। তবে দলছুট হলে আবার সে কাছের মানুষটি হন অন্য কোনো মামলার আসামি। জানা গেছে, তার সাথে সম্পর্ক আছে রয়েছে বা ছিলো এমন প্রায় সকলেই কোনো না কোনো মামলার হয় বাদি নয় আসামি।

সালেহ সেলিমের হাত ক্রমেই যেনো আরও লম্বা হচ্ছে। ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের পর এবার তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সরকারকে। যদিও সরকার দলীয় নেতা হিসেবেই তার পরিচয়। অভিযোগ উঠেছে তিনি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছেন। সে লক্ষ্যেই নাকি শনিবার কাজ আটকে দিয়েছেন তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাচীর নির্মাণের। সরকারি প্রক্রিয়ায় চলমান কাজটি তিনি আটকে দিয়েছেন নিজের ‘প্রক্রিয়া’য়। দুদিন কাজ চলার পর শনিবার তার দলবল এসে কাজ আটকে দেয়। জানায়, বুঝাপড়ার বাকি আছে।

বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উমর শাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগম একাত্তরের কথাকে বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের অধীনে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো। শনিবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। রোকসানা বেগম জানান, তিনি বিষয়টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছেন।