পার্বতীপুরে দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরী হল স্মার্ট এআই ভিশন গান গাভীর কৃত্রিম প্রজননে শতভাগ গর্ভ ধারনের হাতছানী

মনজুরুল হক মঞ্জু মনজুরুল হক মঞ্জু

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৭, ২০২০

গাভীর কৃত্রিম প্রজননে ব্যবহৃত বিদেশে তৈরী অত্যাধনিক ডিজিটাল এআই ভিশন গান দেশিয় প্রযুক্তিতে নামমাত্র খরচে তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে পার্বতীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তার দাবী তার এইগান সঠিক ভাবে ব্যবহার করে শতভাগ গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করা সম্ভব। তার এই সাফল্যে অভিভুত হয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার এআই টেকনিশিন কর্মরত আছেন। তারা সনাতন প্রচলিত পদ্ধতিতে হিট আসা গাভীদের কৃত্রিম প্রজনন কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। এতে করে সর্বোচ্চ ৫০ভাগ গাভী গর্ভ ধারন করাতে পারেন তারা। অনেক গাভী নানা রকম যৌন রোগে আক্রান্ত থাকলেও তা নির্নয় করতে না পারায় কৃত্রিম প্রজনন কাজ করতে হয় ঝুকি নিয়ে। গাভী গর্ভধারন করতে না পারলে টেকনিশিয়ানদের প্রতি আস্থা হারায় খামারি ও গৃহস্থরা।
পার্বতীপুরের এআই টেকনিশিয়ান আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, বিদেশে তৈরী এআই ভিশন গানের মূল্য ২লাখ টাকা। ব্যয়বহুল হওয়ায় বাংলাদেশে এই ভিশন গান আমদানী করা হয় না। তিনি দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ২০হাজার টাকায় ভিষন গানটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি স্টিলের স্পেকুলাম। মাথায় লাগানো হয়েছে হোল্ডার ও পিছনে এয়ার প্রেসার। ভিতরে আছে অত্যাধুনিক ৮টি এলইডি লাইট সংযুক্ত ওয়াটার প্রুপ ক্যামেরা ও একটা ওয়াইফাই ডিভাইজ। প্রজননকালে ডিভাইজটি একটি স্মার্ট মোবাইল ফোনের সাথে যুক্ত করা হয়। স্টিলের স্পেকুলামটি গাভীর যোনী পথে প্রবেশ করালে ভিতরের ছবি চলে আসে মোবাইল ফোনের স্কিনে। স্কিনে ছবি দেখে নির্ভূল ভাবে গভীর জরাযুতে সিমেন প্রয়োগ করা হয়। এতে করে গর্ভধারন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়। কিন্তু এআই ভিশন গান ছাড়া এতো দিন তারা প্রচলিত পদ্ধতিতে হাত দিয়ে অনুমান নির্ভর হয়ে সিমেন প্রয়োগ করায় অধিকাংশ সময়ে গাভী গর্ভধারনে ব্যর্থ হতো। আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার এই গানটির নাম দিয়েছেস স্মার্ট এআই ভিশন বিডি। তার দাবী সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে তিনি সারা দেশের টেকনিশিয়ানদের হাতে তার এই যন্ত্রটি তুলে দিতে পারতেন।
বৃহত্তর দিনাজপুরের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডাঃ আকলিমা খাতুন আঁখি বলেন, তিনি টেকনিশিয়ান আবু হেনা মোস্তফা কামালের উদ্ভাবন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তার উদ্ভাবিত এআই ভিশন গান টেকনিশিয়ানদের হাতে পৌছে দেওয়া সম্ভব হলে দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পাবে।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ জসিম উদ্দীন বলেন, টেকনিশিন আবু হেনা মোস্তফা কামালের এআই ভিশন গান উদ্ভাবনের খবর পেয়ে তা দেখতে আমি পার্বতীপুরে গিয়ে ছিলাম। বিষয়টি আমাকে আলোড়িত করেছে। বিদেশ থেকে এ ধরনে গান আমদানি করতে খরচ পড়তো ২লাখ টাকা এবং বিপুল সংখ্যক টেকনিশিয়ানদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু কামাল স্বল্প খরচে প্রযুক্তিটি আবিষ্কার করেছেন। দেশে প্রতিবছন ৪৭ লাখ গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫০ভাগ গর্ভধান কার্যকরী হয়। এই গান ব্যবহার করা হলে নিঃসন্দেহে গাভীর গর্ভধারনের হার বেড়ে যাবে। ফলে দেশে গবাদী পশুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও এই গানের সাহায্যে গাভীর হিট ডিটেকশন, যৌন রোগ ও চোকের মতো রোগ নির্নয় করা যাবে সহজেই।