নেত্রকোণায় দূর্গাপুর থানার সাবেক ওসি মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

যুবলীগ নেতাকে থানায় এনে ফিল্মি স্টাইলে নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে আলম তালুকদার (২৩) নামে এক যুবলীগ নেতা বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুতবিচার ২০১৯ এর ৪(১)৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

দূর্গাপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন গতকাল বিকালে মামলার এফআইয়ার তৈরি করা হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় আলম তালুকদার পৌর শহরের এমপির মোড় এলাকায় সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আব্দুল কাইয়ুম (২০) নামে এক যুবক তার তিন সহযোগী নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি দেখে আলম তালুকদার কাইয়ুমকে থামতে বলেন কিন্তু কাইয়ুম তা না মেনে চলে যেতে চাইলে আলম তালুকদার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে কাচারীমোড় এলাকায় কাইয়ুমকে আটক করে। এ সময় কাইয়ুমের সঙ্গে থাকা দুই সহযোগী দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে আলম তালুকদার পাশের একটি ঘরে নিয়ে কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদসহ মারধর করেন। একই সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে কাইয়ুমকে থানায় নিয়ে যায়।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্গাপুর থানার তখনকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম ও কনস্টেবল জুয়েল রানা পৌর শহরের মাছ মহাল থেকে আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। আলমের দাবি, ওসির কক্ষে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে গেলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বালু ব্যবসা করে প্রচুর টাকা কামিয়েছিস, আমাকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

আলম তালুকদার এতে রাজি না হওয়ায় ওসির নির্দেশে ওই দুই পুলিশ সদস্য একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ওসি আলমকে বেধড়ক মারপিট ও নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে কক্ষের দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করলে আলমের বমি শুরু হয় ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পর দিন বিকালে কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে রাতে থানায় এনে কাগজে স্বাক্ষর রেখে আদালতে চালান দেয়া হয়। কিন্তু আলম আদালতের কাছে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মুঞ্জুর করেন। পরে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে কয়েক দিন পর সুস্থ হন।

এদিকে ঘটনার পর দিন ১১ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সীসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রাথমিক তদন্তে তারা ওসি মিজানুর রহমানের আইনবহির্ভূত আচরণের সত্যতার প্রমাণ পান। এ কারণে পুলিশ সুপার ওই দিনই ওসি মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করেন। পুলিশ সুপার ওই দিন বলেছিলেন, ওসি মিজানের কিছু কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার যে ধরনের আচরণ থাকার প্রয়োজন মিজান সেখানে তা করেননি।

এছাড়া ঘটনাটি তদন্তের জন্য ওই দিন ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি আক্কাছ উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে গত ১০ আগস্ট যুগান্তরে ‘যুবলীগ নেতাকে মারধর, ওসি প্রত্যাহার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক সত্যতা পেলে ১২ আগস্ট মিজানুর রহমানকে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। গত ১৩ আগস্ট ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এসআই হালিমকে দুর্গাপুর থানা থেকে সরিয়ে মদন থানায় এবং ওসির বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত কনস্টেবল জুয়েলকে দুর্গম খালিয়াজুরি উপজেলার লেপশিয়া ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।