টাঙ্গাইলেওপার কেটে এ পার রক্ষা করা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

মেহেদি হাসান চৌধুরী টাঙ্গাইল অফিস:
নদী ভাঙ্গন রোধে বালির বস্তা ফেলতে ঠিকাদার নদী না আকাশ থেকে বালি আনবে সেটা তার বিষয় আমি জানিনা। তবে নদীর পার কেটে কোন বালি আনা যাবে না। কিন্তু নদীর ওপারের পার কেটে বালি এনে এবার ভাঙ্গন রোধ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি সেদিন কোথায় ছিলেন, যেদিন ডিসি, এসপি, উপজেলা চেয়ারম্যান সেখানে গিয়েছিল।’ এ বিষয়ে আপনি স্থানীয় এমপিকে গিয়ে ধরেন। আপনারাইতো তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। আর নদীর ওপার কেটে এপার ভাঙন রোধ করতে সেদিন আপনাদের উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেই বলেছেন। কোথা থেকে বালি আনছে এত রাতে (পৌনে ১১টা) ফোন দিয়ে আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করছেন। এমপিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন এ কথা। শুক্রবার রাত ১০টা ৪২ মিনিটে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শিবপুর পাছ বেথর এলাকায় পুংলী নদীর পাশে শহর রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। শুক্রবার সেই ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ভাঙন রোধে কোন কার্যক্রম নেই। তবে স্থানীয়রা জানান, সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। একটু এগুতেই দেখা যায়, নদীর এপারে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। আর নদীর ওই পারের পার কেটে বালির বস্তা ভরাট করা হচ্ছে।
আব্দুল মালেক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এপারতো বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে, কিন্তু বালি যেখান থেকে আনা হচ্ছে পরবর্তীতে ওই পারেওতো ভাঙন দেখা দিবে। পরবর্তীতে ওই পারের মানুষও ভঙন কবলিত হয়ে পড়বে।
আজগর আলী নামের আরেকজন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা ভাবে কাজ করায় প্রতিবছরই ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। এবার আবার নতুন করে পানি কমার সাথে সাথে ওই পারের মানুষ (যেখান থেকে বালি আনা হচ্ছে) ভাঙনের শিকার হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার যোগসাজস করে এমন কাজ করছে। এতে করে তাদের খচর কম হচ্ছে। তবে সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন তাদের এই কাজে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয় তারা নিজেরাই কাজ করছেন।
এর আগে গত ২৩ জুলাই সদর উপজেলার শিবপুর পাছ বেথর এলাকায় পুুংলী নদীর পাশে শহর রক্ষা এই বাঁধের ২৫০ মিটার ভেঙে যায়। এতে করে হুমকির মুখে পড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। এই ভাঙন ঠেকাতে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেয় পাউবো। তাদের দাবি ২৫০ মিটার ভাঙন এলাকায় সাড়ে ১৩ হাজার বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
তবে এলাকাবাসী জানায়, এ ভাঙন রক্ষায় পাউবো তিন থেকে চার হাজার বালির বস্তা ফেলেছে। এতে করে বাঁধ রক্ষায়কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছেন তারা।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, নদীর গতি পথ ঠিক রাখতে নদীর ওপার কেটে এপার বালি ফেলার কথা আলোচনা হয়েছিল। মূলত বাঙন এলাকায় বালি ফেলার জন্য দূর থেকে বালি আনার কথা। কিন্তু সেটা না করে খরচ কমানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসেই নদীর ওপার থেকে এপারে ভাঙন রোধে বস্তা ফেলা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীর এ পার ভাঙন রোধে ওই পার কেটে বালি আনার বিষয়টি আপনাদের উপজেলা চেয়ারম্যান দিয়েছেন। আর এ বিষয়ে আপনাদের এমপি ভাল বলতে পারবেন।’