বঙ্গবন্ধুর জীবন সংগ্রাম নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১১, ২০২০

গত ১০ আগস্ট, সোমবার রাত ৮টায় “বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ” এর উদ্যোগে “বঙ্গবন্ধুর জীবন সংগ্রাম” নিয়ে একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন স্বাধীনতার কবি নির্মলেন্দু গুণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ এবং পিস এন্ড হারমনি ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট কবি ও অনুবাদক আনিষ মুহাম্মদ। কবি ও গীতিকার সুজন হাজংয়ের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ এর আহবায়ক কবি নির্মলেন্দু গুণ। ভার্চুয়াল আলোচনার শুরুতে কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বরচিত কবিতা আগস্ট শোকের মাস, কাঁদো কবিতাটি পাঠ করে বলেন, বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস এবং ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে নানা সময়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মনোজগৎ নির্মাণে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানের একটা বড় প্রভাব ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে যেতেন তখন তাঁর অবসর যাপনে রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান, সঞ্চয়িতা ও নজরুলের কবিতাগুলো তাঁর পাঠ্যবিষয় হয়ে উঠেছিল। আমরা কারাগারের রোজনামচা ও তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করে বুঝতে পারছি তিনি একজন সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন। একজন লেখক ছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর লেখকসত্তাকে সামনে নিয়ে না এসে তিনি তাঁর রাজনৈতিকসত্তাকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি দেখেছেন কবির স্বপ্ন, স্বাধীনতার স্বপ্ন কবির মধ্যেই থেকে যায়, গানের মধ্যেই শেষ হয়। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ যখন কবির সেই স্বাধীনতার স্বপ্নকে অন্তরে ধারণ করে তিনি রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম শুরু করেন। তখন রাজনীতির সঙ্গে কাব্যের সাহিত্যের মেলবন্ধন সৃষ্টি হয় এরকম একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ এবং বঙ্গবন্ধুর ভেতরে। সেখান থেকেই রাঙালির মুক্তির পথ তৈরী করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পেয়েছি এটা আমার সৌভাগ্য। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত বাস্তববাদী নেতা ছিলেন। তিনি কখনও সময়ের আগে কিছু করেননি। সব সময় সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন বা সময়কে প্রস্তুত করেছেন। বঙ্গবন্ধু ক্রমান্বয়ে ভাষার আন্দোলনে গেছেন সেখান থেকে মানুষকে প্রস্তুত করেছেন, খাদ্য আন্দোলনে গেছেন, শিক্ষা আন্দোলনে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ছয় দফার আন্দোলনে গেছেন। তিনি সময়কে ব্যবহার করেছিলেন এবং সময়ের আগে না গিয়ে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সময়ের সাথে গিয়েছিলেন। তাঁর সময়কে বুঝার বিরাট জ্ঞান ও প্রজ্ঞাই আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতিকে খুব মূল্য দিতেন। যার জন্য রবীন্দ্রনাথকে তিনি এত ভালবাসতেন, নজরুলকে এতো ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধু আমার সোনার বাংলা গানটি নিজেই গাইতেন। আলোচনার এক পর্যায়ে সুজন হাজং কবি নির্মলেন্দু গুণের “স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো” কবিতাটি তাঁর হাজং ভাষায় অনুবাদ করে পাঠ করেন। কবি নির্মলেন্দু গুণ তাঁর বিখ্যাত কবিতা “আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি” কবিতাটি পাঠ করে ভার্চুয়াল আলোচনা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।