কেড়ে নেয়া হলো প্রতিবন্ধীদের ভাতা

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৮, ২০২০
সারোয়ার জাহান আরিফঃ
 
নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা জোর করে কেড়ে নিয়েছেন এক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের বক্তব্যসহ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে টাকা ফেরতসহ ইউপি সদস্যের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সালমা সুলতানা। ভাতার টাকা জোর করে কেড়ে নেওয়ার কাজে তাঁকে সহায়তা করেছেন স্বামী আবুল কালাম আজাদ ফারুক।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে খিদিরপুর ইউনিয়নে ২৭৯ জন প্রতিবন্ধীকে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করেন সালমা সুলতানা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই সোনালী ব্যাংকের রামপুর শাখা থেকে নতুন ভাতাভোগী প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ৯ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী মনোয়ারা, দেলোয়ারা, পাপিয়া, নাছিমা, নার্গিস ও আব্দুল মালেক জানান, ভাতার টাকা উত্তোলন করে ফেরার পথে ইউপি সদস্য সালমা বেগম ও তাঁর স্বামী ফারুক তাঁদের কাছ থেকে জোর করে পাঁচ হাজার টাকা করে কেড়ে নেন।
 
স্থানীয় লোকজন জানায়, ইউপি সদস্য সালমা সুলতানা ও তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এলাকায় অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এলাকার নিরীহ প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে জনপ্রতি তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
 
 
প্রতিবন্ধী আব্দুল মালেক বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ৯ হাজার টাকা উত্তোলন করার পর ভয় দেখিয়ে মেম্বার সালমা ও তার স্বামী ফারুক আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে গালাগালি ও হুমকি-ধমকি দেয়।’
অভিযুক্ত সালমা সুলতানা বলেন, ‘আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিইনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
 
খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। আমার কাছে কেউ অভিযোগও করেনি।’ মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের কেউ আমার কাছে এলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’