কপোতাক্ষ নদ এখন ভাগাড়ে পরিনত মিলন দাশ মিলন দাশ পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ , মে ৪, ২০২৬ কপোতাক্ষ নদকে আমরা কি আবারও হারাবো ? আবারও কপোতাক্ষ কি সোঁতায় পরিনত হয়ে দুপাড়ের লাখ লাখ মানুষকে দুঃখ যাতনায় কাঁদাবে ? এমন আশংকায় ফিকে হয়ে আসছে এ জনপদের মানুষের মুখ| দেশের দক্ষিন পশ্চিমাংশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্যদেবী কপোতাক্ষ এক সময় ছিল অদম্য যৌবনে বেহুস যুবকের মত| মাত্র তিন দশকের মধ্যে খরস্রোতা এ নদ তার যৌবন হারিয়ে জলহীন এক মরা সোঁতায় পরিনত হয়| এর ফলে নেমে আসে কপোতাক্ষির অববাহিকায় লালিত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের করুন দুর্দশা| নদটি নাব্যতা হারিয়ে জোয়ার আর বর্ষার উগ্রে দেওয়া পানিতে দুপাড়ে স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়| শুরু হয় এ জনপদে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল,গৃহপালিত পশুপাখি সহ নানা বৃক্ষরাজি সংহারের করুণ অধ্যায়| হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে অনত্র আশ্রয় নেয়| অর্থনীতিতে নেমে আসে ধ্বস| কর্মহীন হয়ে বেশুমার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করে| কয়েক বছর চলতে থাকে এ অবস্থা| দাবি উঠে কপোতাক্ষ বাচাঁও| স্থানীয় চৌহাদ্দির গন্ডি পেরিয়ে জাতীয়ভাবে কপোতাক্ষ বাচাঁও আনদোলন জোরদার হয়| পত্র পত্রিকায় শিরোনাম হয় মৃত কপোতাক্ষর| দীর্ঘ আন্দোলন ও ধারাবাহিক পত্র পত্রিকায় লেখালেখির পর সরকার আন্তরিক হয়| মধু কবির কপোতাক্ষ বাঁচাতে সরকার নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় কপোতাক্ষ খননে| ২০১৫ সালে প্রায় ২৬১ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্ধ দিয়ে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়| কপোতাক্ষ খনন কাজ শুরু হলে নেতিয়ে পড়া দুপাড়ের মানুষ উচ্চকিত হয়| দিঘল অমানিশার রাত কাটিয়ে ভোরের ঝলমলে সোনালী আলোক স্নাতের আশায় বুক বাঁধে ভুক্তভোগিরা| খনন শেষে বক্ষ জুড়ে পানি প্রবাহের নন্দন কানণে কপোতাক্ষ ফিরে এলে খুশির ঝিলিক দেখা যায় তাদের মুখে| তবে বর্তমান তাদের এ হাসিমাখা মুখ ধীরে ধীরে লিন হয়ে যাচ্ছে| কপিলমুনি বাজারের কপোতাক্ষ নদের পাড়ে বিস্তীর্ন জায়গা জুড়ে অপরিকল্পিত ভাবে প্লাষ্টিক ও পলিথিন সামগ্রী সহ নানা বর্জ্যের আধার তৈরি করা হয়েছে| নদ পাড়ে অনেক জায়গায় দেখা যায় বর্জ্যের বড় বড় স্তুপ| যা থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য নদে পড়ে তার উপর পলি জমে নদের তলদেশ ভরাট হয়ে নদের বক্ষ ক্রমশ উঁচু হচ্ছে| এ ছাড়া কপিলমুনির হোটেল রেস্তোরার পোড়ামাটির অসংখ্য দধির পাত্র (টাটি) আর বালুবাহী কার্গো জাহাজ থেকে নিসৃত বালিতে নদের বক্ষ ভরাট হচ্ছে| এসব বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তাদের নজরদারি না থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও কপোতাক্ষ নাব্যতা হারিয়ে সোঁতায় পরিনত হয়ে দুপাড়ের মানুষকে কাঁদাতে পারে এমন আশংকার কথা জানান বিজ্ঞজনরা| শেয়ার সারা দেশবিষয়: