বেনাপোল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড দিঘীরপাড়ে বিএনপির জনসভা: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ Oplus_131072বেনাপোল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(২৬ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় দিঘীরপাড় ইদগাহ ময়দান সম্মুখে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদেন ৮৫,যশোর-১ শার্শা আসনের এমপি প্রার্থী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন। এতে সভাপতিত্ব করেন মো.মোশারফ হোসেন।Oplus_131072 সভায় ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা এবং পৌর বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ওয়ার্ডের শত শত সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মীরা মিছিলসহকারে অংশগ্রহণ করেন। জনসভাটি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন- বেনাপোলের শীর্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও ঐ এলাকার বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রাত্রকালীন ঐ নির্বাচনী জনসভায়,বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যের পর সকল’কে সালাম জানিয়ে নুরুজ্জামান লিটন তার বক্তব্যে বলেন, রাজনীতি জনগণের সেবার পথ। আমি আজ এখানে আপনাদের সামনে কোনো বড় নেতা হিসেবে নই, বরং আপনাদের একজন সেবক, আপনাদের সন্তান এবং ভাই হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য আপনাদের পাশে থাকা এবং আপনাদের উন্নয়নে কাজ করা। বহু ত্যাগী নেতার রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে, বিশেষ করে আলহাজ্ব আলিকদর সাহেবের মতো ব্যক্তিত্বরা যারা এই দলকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন, তাদের অবদান আমরা কখনোই ভুলতে পারবো না। দলের প্রয়োজনে তারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিতে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা আমাদের নেত্রীকে শ্রদ্ধা করি, তাঁর নেতৃত্বকে ভালোবাসি। দলের স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। অতীতে হয়তো অনেক আবেগঘন মুহূর্ত এসেছে, কিন্তু আমরা সব সময়ই দলের আদর্শ ও নির্দেশের প্রতি অবিচল থেকেছি। আমাদের আগামীর অঙ্গীকার,আগামী নির্বাচনে আপনাদের একটি ভোট শুধুমাত্র আমাকে জয়ী করবে না, বরং এই এলাকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই:আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকবো। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করবো।এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সততার সাথে কাজ করে যাবো। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের এই সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাই। দলের প্রতি আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে মেনে নেওয়া সবার দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালে যখন তৃপ্তি ভাইকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তিনি ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। তখন দলের মহাসচিব এবং অন্যান্য নেতাদের অনুরোধে তৃপ্তি ভাইকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন , যদিও তৃপ্তি ভাই দীর্ঘদিন দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না, তবুও নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ এবং দলের স্বার্থে তিনি তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন। তার মতে, যারা সত্যি দলকে এবং বেগম জিয়াকে ভালোবাসেন, তাদের উচিত দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।প্রবীণ নেতাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে: তিনি তৃপ্তি ভাই, হাসান ভাই এবং মধু ভাই এর নাম উল্লেখ করে তাদেরকে তার ‘অভিভাবক’ হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি জানান , রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি এই নেতাদের সাথে নিয়ে কাজ করেছেন। নেতারা ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি তার কর্মীদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “অন্য কোনো দলের মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলবেন না।” এর মাধ্যমে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।নুরুজ্জামান লিটন বলেন, তারেক রহমান, খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কখনো ক্ষমতার দাপট বা অহংকার প্রদর্শন করেননি। জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বড় বড় সরকারি পদে থাকলেও তারা কখনো নিজেদের পরিচয় দিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি।নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি নেতাকর্মীদের অতি-উৎসাহী না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, যারা মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা সমাজ, দল বা পরিবারের জন্য কল্যাণকর নয়। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আগামী দিনে ‘ভালো মানুষ’ ছাড়া কেউ বিএনপি করতে পারবে না। তারেক রহমানের নির্দেশে রাজনীতিতে জনগণের সেবক হওয়া এবং মানুষের সম্মান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরিশেষে, তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি/২০২৬ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন-কে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবরা অনেক সময় অস্বচ্ছল অবস্থায় থাকেন। সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্যের জন্য চাল, ডাল বা সামান্য টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন, যা দিয়ে তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়। অনেক ইমামের মাসিক বেতন ৫ হাজার, ৩ হাজার বা তার চেয়েও কম। ১০ হাজার টাকা বেতন পান এমন ইমামের সংখ্যা খুবই নগণ্য। দলের নেতা তারেক রহমান এর বরাত দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে প্রতিটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের জন্য মাসিক সরকারি সম্মানী বা বেতন নিশ্চিত করা হবে। এই সুবিধা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।এছাড়া ঈদ, দুর্গাপূজা এবং বড়দিনের মতো প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ধর্মীয় নেতাদের জন্য উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম, কোরআন এবং হাদিসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, তারা প্রচারণা চালাচ্ছে যে “দাঁড়িপাল্লা” মার্কায় ভোট দিলে মানুষ বেহেশতে যাবে, যা কোরআন বা হাদিসের কোথাও নেই। তিনি হজরত ফাতেমা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন যে, নবী করিম (সা.) কখনো তার প্রিয় কন্যাকে ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেননি। তিনি দাবি করেন, নারীদের এভাবে রাজনৈতিক বা প্রচার কাজে ব্যবহার করা ইসলাম সমর্থন করে না। হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে নতুন করে কারো কাছ থেকে শেখার কিছু নেই, বরং নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করাই যথেষ্ট। ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পরকালে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে একদল ভণ্ড আলেম বা ইমাম যারা নিজেদের অনেক বড় ধর্মীয় নেতা হিসেবে দাবি করে কিন্তু অন্তরে সততা নেই। এছাড়া লোকদেখানো দান-খয়রাত করা ব্যক্তিরাও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। জামায়াতের প্রার্থীদের একটি প্রচারণার সমালোচনা করে বলেন, তারা দাবি করে যে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে সরাসরি জান্নাতে যাওয়া যাবে—যাকে তিনি অযৌক্তিক এবং হাস্যকর বলে অভিহিত করেন।মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান জানান। শেয়ার বাংলাদেশবিষয়: