অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভোলার তারুয়া সমুদ্র সৈকত গাজী তাহের লিটন গাজী তাহের লিটন প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৭, ২০২৫ “পৌষের কাছাকছি রোদ মাখা সেই দিন ফিরে আর আসবে কি কখনো খুশী আর লজ্জার মাঝামাঝি সেই হাসি তুমি আর হাসবে কি কখনো” কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী মান্না দের এ বিখ্যাত সংগীতটি পৌষমাসের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং কনকনে শীতের দাপটকে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছে। রোদ থাকুক বা না থাকুক পৌষের এ কনকনে ঠান্ডায় অগণিত দর্শনার্থীদের আগমনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে তারুয়া সমুদ্র সৈকতে।তারুয়া সমুদ্র সৈকত ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ২০ কিলোমিটা দূরত্বে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত । জেলা সদর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরত্ব দ্বীপটির । একশত পয়ত্রিশ কিলোমিটার পাকা সড়কের পর পনের কিলোমিটার নৌ-পথ পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। শীত মৌসুমের শুরুতেই দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তম তারুয়া সমুদ্র সৈকতে মানুষ ও পাখিদের হাট বসেছে। বিচিত্র পাখ-পাখালির মধুময় কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানকার জনপদ।বছর জুড়ে তারুয়ায় পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে হরেক রকম পাখির কলোকাকলীতে সরব থাকলেও শীতে যেন নতুন প্রাণ পায় এ অঞ্চলের পাখিরা। আবার এদের সঙ্গে যোগ হয়েছে সাইব্রেরিয়াসহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দল। ইতিমধ্যে হাজারো প্রকৃতি প্রেমীককে আকৃষ্ট করেছে তারুয়া দ্বীপের বিচিত্র বর্ণিল পাখিরা। কুকরি মুকরি, কালির টেক, বালুরধুম কালির চর, চর সিরাজ দ্বীপসমূহে শীতের পাখির সমারোহ। হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটককে আকৃষ্ট করছে তারুয়া বিচ।পর্যটন পিপাষু বিভিন্ন মিডিয়ায় তারুয়া বিচ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তারুয়া দ্বীপে গত কয়েকবছর থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। দক্ষিণ আইচার চর কচ্ছপিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের নৌকা বা ট্রলার বা স্পিডবোটে যাওয়া যায় তারুয়া দ্বীপে। চারদিকে দেখা যায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের অপরূপ দৃশ্য।তারুয়া সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা একই সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন বিশাল সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নানা জাতের পাখিদের কল-কাকলি, বালুকাময় মরুপথ আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ছায়াঘন মনকাড়া নিবিঢ় পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ, বৈচিত্রময় প্রাণী আর সাগরের উত্তাল গর্জন সব মিলিয়ে মায়াবী হাতছানী। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে দ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।এখানে হরিণ ও ভাল্লুকসহ নানা প্রাণী ও দৃষ্টিনন্দন মাটি রয়েছে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আর পাখিদের কলরবে মুখরিত তারুয়া দ্বীপ পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বের দাবী রাখে। কিন্তু তারুয়া সমুদ্র সৈকতের এই প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্যের কথা দেশবাসী তো দূরের কথা ভোলার বহু মানুষের কাছে এখনও অজানা।যাতায়াত ব্যবস্থা: সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নদী পথে যাতায়াত করা। ঢাকার সদরঘাট থেকে রাত ৮টায় এমভি তাসরিফ-৩/৪, কর্ণফুলী-১২/১৩, এবং ফারহান -৫/৬ করে বেতুয়া লঞ্চঘাট, সেখান থেকে অটোতে চলে যাবেন চর কচ্ছপিয়া ঘাট, সময় লাগবে মোটামুটি ৪০-৫০ মিনিট। চর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে লোকাল ট্রলারে, রিজার্ভ স্পিড বোড অথবা ট্রলারে করে এক ঘন্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় তারুয়া দ্বীপটিতে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপে লীলাভূমি যেন দ্বীপের রানী। চোখে না দেখলে মনোমুগ্ধকর চিত্ত উদ্বেলিত তারুয়া সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য হয়তো কখনো সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যাবে না। শেয়ার অন্যান্যবিষয়: