বৈধ মালামাল ডিএম ও আটক প্রক্রিয়ায় ভারত- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র বৈধ পাসপোর্ট যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা গভীর সংকটে

প্রকাশিত: ২:০৯ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪
Oplus_131072
বহু প্রাচীন কাল থেকেই  ভারত থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বৈধভাবেই পাসপোর্ট যাত্রী ও ক্ষুদ্র পাসপোর্ট ব্যবসায়ীরা ব্যবহৃত মালামাল নিয়ে আসেন । এই আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে অবৈধ মালামাল বহন বা পারাপারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করে থাকে ৷
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিকেরা পাসপোর্ট এর মাধ্যমে  দু দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন ৷ এ সময় তারা পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ,কম্বল, প্রসাধনী, ঔষধ ব্যবহারের জন্য নিয়ে আসেন৷
দু’দেশের কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাঝে মধ্যে তাদের রুটি রোজগারের জন্য বৈধভাবে কিছু বৈধ মালামাল নিয়ে আসলে এতে বিভিন্ন সময় বাধ সাধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বিজিবি অতিরিক্ত মালামাল পেলে যথারীতি ডিএম বা জব্দ করে নেওয়ার কারনে এ সকল বৈধ পাসপোর্ট এর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছেন, তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবতার দিন যাপন করছেন।
বেনাপোল চেকপোষ্ট ঘুরে দেখা যায়, এ অঞ্চলের অনেক গরিব পরিবার পাসপোর্ট এর মাধ্যমে কিছু মালামাল এনে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে৷ কিন্তু ৫ আগষ্ট এর পর সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেখা যায় যে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত তদারকির কারণে বৈধভাবে মালামাল আনা প্রায় বন্ধ রয়েছে৷ যার দরুন হুমকির মুখে রয়েছে বেনাপোল চেকপোষ্টের ও বেনাপোল বাজারের হাজারখানিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এর একটা প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক চালক ও তাদের পরিবারের উপর, দিন দিন পাসপোর্ট যাত্রীর পরিমাণ কম হওয়ায় তারাও অভাব অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছে৷
চেকপোস্ট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির একজন দোকান মালিক বলেন, পাসপোর্ট যাত্রীরা যখন একসাথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তখন অনেক সময় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয় এতে ১৫-২০ জন পাসপোর্ট যাত্রীরা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে তাদের সাথে ব্যাগ দেখে মনে হয় অনেক মালামাল পাচার হচ্ছে এই ভুল ধারণা থেকে অনেক গণমাধ্যম কর্মীরা মনে করে থাকেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল এনেছেন৷ এরকম ভুল ধারণা থেকে রিপোর্টের কারণে আমরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি৷
এ সময় একজন ইজিবাইক চালক বলেন যে, প্রতিদিন কয়েকজন পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেন তারা বৈধভাবে পাসপোর্টে ভিসার মাধ্যমে অল্প কিছু মাল আনলেও মালামাল ডিএম বা জব্দ করার কারণে আমাদের এখন যাত্রীর পরিমাণ প্রায় শূন্য, স্থানীয় লোকাল যাত্রীর উপর নির্ভর করে সংসারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় ৷

ক্ষুদ্র পাসপোর্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা ভারত থেকে কোন অবৈধ মালামাল পাচার বা বহন করি না, বৈধ ভিসার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন-কানুন মেনে ব্যবহারের অল্প কিছু মালামাল এনে থাকি , কিন্তু একাধিবার ভারতে গেলে কাস্টমস ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ মালামাল আটক বা ডিএম করে রেখে দেয় ৷ তারা আরো বলেন , কাস্টমসের আইন অনুসারে একজন পাসপোর্ট যাত্রী লাগেজের মাধ্যমে কতটুকু পণ্য অন্য দেশ থেকে আনতে পারবে তার একটা নির্দিষ্ট গাইড লাইন লিখে দেওয়া উচিত৷
একজন পাসপোর্ট যাত্রী বলেন, আমাদের পরিবারে পাঁচজন সদস্য, ব্যবহারের জন্য তিনটি কম্বল আনলে একটি দিয়ে দুটি ডিএম করে দেয়৷ তিনি অভিযোগ করে বলেন, এভাবে মালামাল ডিএম করে দিলে সরকারি ট্যাক্স দিয়ে বিদেশে গিয়ে কি লাভ ৷

খুলনা থেকে আগত হাসান নামে এক পাসপোর্ট যাদ্রী ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তিন মাসের ঔষধ নিয়ে আসলে প্রথমে কাস্টম কর্তৃপক্ষ ওষুধ গুলো রেখে দিতে চাইলে পরে প্রেসক্রিপশন দেখালে ওষুধগুলা পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়।
ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ভিসা প্রদান না করায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যা অনেকাংশে কমলেও বর্তমানে ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০-৭০০ ভারতীয় নাগরিক পাসপোর্টের মাধ্যমে বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গত ১ জানুয়ারী ২৪ হতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ৭৮৫৪৬৪ (বাংলাদেশী যাত্রী) এবং ২৩১২৫৮(ভারতীয় যাত্রী)। ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন ৭৭৫৮৭৬ (বাংলাদেশী যাত্রী) এবং ২২২২২৪(ভারতীয় যাত্রী)।

বেনাপোল বাজার থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্পটে তল্লাশির নামে মোটর সাইকেল,বাইসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান থামিয়ে যাত্রীদের ব্যাগ চেক করছে, এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এভাবে বেনাপোল থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে টহল না বসিয়ে নির্দিষ্ট একটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালালে সময় যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি যাত্রী ও পৌরবাসী হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাবে৷
জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের বাণিজ্য শহর কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষাসহ স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ যান। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা, যাতায়াতে সময় ও খরচ কম বিধায় ভারতগামী অধিকাংশ মানুষ এপথ ব্যবহার করে থাকেন।

Loading