পটিয়ায় আয়োডিন দিবসের সভায় আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা দূরীকরণের আহবান

এস.এম.এ জুয়েল এস.এম.এ জুয়েল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ , অক্টোবর ২২, ২০২৪
আয়োডিন অভাবজনিত সমস্যা একটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা। এ সমস্যা নিরসণকল্পে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২১ অক্টোবর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশ্ব আয়োডিন দিবস পালিত হয়। এ দিবসে বাংলাদেশে ২১ অক্টোবর বিশ্ব আয়োডিন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কর্তৃক আয়োজিত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল (NI) ও গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্পুভড নিউট্রিশন (GAIN) এর সহায়তায় ২১ অক্টোবর (সোমবার) ‘বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা পটিয়াস্থ খুশবু ডাইন রেস্টুরেন্ট এ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োডিন দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী। পটিয়া বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র সানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার স্বপন চন্দ্র দে, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তপন কুমার রায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ শাহ এমরান, বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার, ডা. ফয়সাল ইবনে মামুন রাব্বি, পটিয়া থানার সাব ইন্সপেক্টর রতন কান্তি দে এবং নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল (এনআই) পটিয়া জোনের জোনাল কো-অর্ডিনেটর মোঃ গোলাম মাহিন। আলোচনা অনুষ্ঠানে আয়োডিনের গুরুত্বের উপস্থাপনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার স্বপন চন্দ্র দে। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, লবণ মিল মালিকগণ, লবণ ব্যবসায়ী, ভোক্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় অনুপুষ্টি। আয়োডিন মানুষের স্বাভাবিক, মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। দেশে অনুপুষ্টির অভাবজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যা অন্যতম। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড, হাবাগোবা, বামনত্ব, অকাল গর্ভপাত, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিত্বসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ৯০ দশকের পূর্বে বাংলাদেশে আয়োডিন ঘাটতিজনিত সমস্যাসমূহ প্রকট আকার ধারণ করেছিল। আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার ১৯৯০ সাল হতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লবণ মিলের নিবন্ধন প্রদান, মিলসমূহকে পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, লবণমিল ও বাজার পর্যায়ে মনিটরিং এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। এ কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে ৭৬% পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে। বর্তমানে দৃশ্যমান গলগণ্ড নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এতে বক্তারা আরও বলেন, দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কার্যক্রমের শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যার হার ছিল ৬৮.৯০%। বিসিকের এ কার্যক্রমের ফলে ২০১৯-২০পর্যন্ত আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যার হার কমে দাড়িয়েছে ২৪.৬%। বর্তমানে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যার হার কমে আরো কমে গেছে। কোন দেশের ৯০% মানুষ পরিমিত মাত্রায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে সে দেশ আন্তর্জাতিকভাবে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সে স্বীকৃতি পেতে আমাদের আর বেশি দেরি নেই। আর মাত্র ১৪% মানুষকে পরিমিত মাত্রায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসতে পারলেই আমরাও সে স্বীকৃতি অর্জন করবো। সে উদ্দেশ্যেই এই আলোচনা সভা। দেশের মানুষকে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসতে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আয়োডিন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিশ্বব্যাপী ২১ অক্টোবর দিবসটি উদযাপিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও এবছর আয়োডিন দিবসের গুরুত্বের উপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Loading