শার্শায় মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি স্টাফ রিপোর্ট স্টাফ রিপোর্ট যশোর প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ , মে ২৪, ২০২৬ যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মোমিনুল ইসলাম বলেন, “নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সোহাগ হোসেন আমার কাছে অযৌক্তিকভাবে চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে সাজানো ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেন। একটি সম্মানিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। যদি কারও কাছে প্রকৃত কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি আইনগতভাবে তদন্ত হোক। আমি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। একইসঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানহানির চেষ্টা চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে, সংবাদে যার নাম জড়িয়ে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেই ছাত্রীর পরিবারের সাথেও কথা বলা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাড়িতেও ছিলাম না। কোথা থেকে কোন সাংবাদিক এসে আমার মেয়ের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তা প্রচার করেছে, যার কারণে আমাদের পরিবার সামাজিকভাবে হয়রানির মধ্যে পড়েছে।” পরিবারটির দাবি, তাদের অনুমতি বা যথাযথ যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করায় তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিক সোহাগ হোসেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজার সংলগ্ন বাগুড়ি গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগেও তিনি একটি টং চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। হঠাৎ করেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে অতীতেও কয়েকবার স্থানীয়দের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তারা। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। একইসঙ্গে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শেয়ার বাংলাদেশবিষয়: