মানিকগঞ্জের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ৭ বছর পর সাভারে গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ , জুলাই ৩১, ২০২২

মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরের চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী নজরুল ইসলাম (৪২)কে ০৭ বছর পর ঢাকা জেলার সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত, সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে র‌্যাবের জোড়ালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরের চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস হত্যা মামলার দীর্ঘ ০৭ বছর ধরে পলাতক মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ নজরুল (৪২)’কে ৩০ জুলাই ২০২২ তারিখ রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

৩। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, হরিরামপুর থানার কদমতলার কোমেলা বেগমের ছেলে ইদ্রিস আলী পেশায় একজন রিক্সাচালক। ইদ্রিসের সাথে মানিক নগর গ্রামের জোনাব আলীর মেয়ে সেলিনা বেগমের ২০০৫ সালে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের ঘরে ০১ টি মেয়ে ও ০১ টি ছেলে সন্তান থাকলেও প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। সেলিনার সাথে তার স্বামী ইদ্রিসের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগে আসামী সাত্তার ইদ্রিসের বাড়ী গিয়ে স্বামী স্ত্রীর বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে সেলিনার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। আসামী সাত্তার সেলিনাকে দিয়ে স্বামী ইদ্রিসের বিরুদ্ধে আদালতে নারী শিশু নির্যাতন মামলা করায়। মামলার কারণে সেলিনা ঘর সংসার ফেলে আদালতে যাওয়া আসা করতে থাকে। সেলিনাকে তার স্বামী ইদ্রিস, আসামী সাত্তারের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও আদালতে যাওয়া আসায় বাধা দিলে সেলিনা ইদ্রিসকে কৌশলে হত্যা করার জন্য সাত্তার, নজরুল ও দুলালের সাথে গোপনে ষড়যন্ত্র করে।

৪। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেলিনা সন্তানসহ স্বামী ইদ্রিসের রিকসাযোগে তার বাবার বাড়ীতে চলে যায় এবং মোবাইলে সাত্তার, নজরুল ও দুলালকে সেখানে আসতে বলে। ইদ্রিসসহ সকল আসামী সেলিনার বাবার বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া শেষে সেলিনা কৌশলে তার স্বামী ইদ্রিসকে চেতনানাশক কিছু ঔষধ খাইয়ে দেয়। অতঃপর ইদ্রিস তার রিক্সা চালিয়ে নিজ বাড়ীর সামনে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সেলিনা ও নজরুল তাকে ধরাধরি করে ইদ্রিসের বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২৮ নভেম্বর ২০১১ ইং তারিখ রাত অনুমান ১২.০০ ঘটিকায় হতে ০২.০০ ঘটিকার মধ্যে আসামী সাত্তার, দুলাল, নজরুল ও সেলিনা ভুক্তভোগী ইদ্রিসের গলায় প্রথমে নাইলনের রশি পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে এবং একই সাথে তারা ইদ্রিসের হাত, পা ও মাথা চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে কাঁথা দ্বারা তার মৃতদেহ ঢেকে রেখে দ্রæত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২৮ নভেম্বর ২০১১ তারিখে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কর্তৃক ভ‚ক্তভোগীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে ময়না তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে ০৫ ফেব্রæয়ারি ২০১৩ তারিখে ভ‚ক্তভোগীর মা কোমেলা বেগম বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় সাত্তার, দুলাল, নজরুল ও সেলিনার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং-০২ তারিখ ০৫/০২/২০১৩ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ দঃ বিঃ। উক্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি নজরুলকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে উক্ত আসামি ৩৮ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পায়। মামলার অন্যান্য আসামীরা পলাতক ছিল। পরবর্তীতে চার্জশিটের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ভুক্তভোগী ইদ্রিস হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ২০১৬ সালের প্রথম দিকে মানিকগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র দায়রা জজ চার্জশীটে অভিযুক্ত আসামী নজরুল ও সেলিনাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং অপর একজন আসামি দুলাল’কে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। এছাড়াও অন্য আসামী সাত্তার বিচারকার্যের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনার পর হতে আসামী নজরুল দীর্ঘ প্রায় ০৭ বছর যাবত পলাতক ছিল।

৫। আসামীর জীবন বৃত্তান্তঃ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী ১৯৮০ সালে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানাধীন কামারঘোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করে। গত কিছু দিন ধরে আসামি নজরুল ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ী এলাকায় বসবাস করে আসছিলো। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আসামী নজরুল ঢাকা, আশুলিয়া ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতো এবং এক জায়গায় সে বেশিদিন অবস্থান করতো না। তাছাড়াও পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে সে প্রতিনিয়ত পেশা পরিবর্তন করতো। সে বিভিন্ন সময় ভ্যান চালক, কাঁচা মালের ব্যবসা, সবজি বিক্রেতা কিংবা হোটেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত।

৬। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।