জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আবেদন

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ , জুলাই ১৭, ২০২২

বরিশালের গৌরনদীর মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সহ ১১ ইউপি সদস্য জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির পরিবার। আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, জীবনের নিরাপত্তা চাওয়া মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আবেদনের বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগন তাদের লিখিত আবেদনে গত ৮ জুলাই বিকেলে ইউনিয়নের পূর্ব বেজহার গ্রামের রাসেল রাঢ়ী, একই গ্রামের করিম তালুকদার, আরিফুল ইসলাম রাসেদ, মাসুদ রাঢ়ী, পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের জুয়েল হাওলাদার, শরিফাবাদ গ্রামের স্বপন হাওলাদার, পশ্চিম বেজহার গ্রামের সরোয়ার সরদার সহ ১৫/১৬ জন সহযোগীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়ে এলকায় আতংক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা হাপানিয়া গ্রামে বসে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ও বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কর্মরত মাহতাব হোসেনকে পিটিয়ে হাতের কব্জি ভেঙ্গে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের নাম উল্লেখ করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে।
আবেদনে আরওবলঅ হয়েছে, রাসেল রাঢ়ী ও তার সহযোগীরা গত ১২ জুন ইউনিয়ন পরিষদের ৬নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে গত ২৯ জুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই যুবলীগ নেতা সলিল গুহ পিন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। উভয় ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্তরা আরো ক্ষিপ্ত হয়।
অপরদিকে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কালিয়া দমন গুহর স্ত্রী তাপসী রানী গুহ তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১০ জুলাই থানায় সাধারন ডায়েরি করেছেন।
কালিয়া দমন গুহ সাংবাদিকদের বলেন, দল ক্ষমতায় থাকা সত্বেও একাধিকবার আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে। আমার বড় ছেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুকে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে পিকলু শষ্যাশয়ী রয়েছে। এছাড়া ছোট ছেলে যুবলীগ নেতা সলিল গুহ পিন্টুকে হত্যার জন্য পর পর তিনবার নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে পিন্টুও শষ্যাশয়ী। এরপরেও আমার বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি। প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা সহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সহ প্রধানমন্ত্রীরও আশু হস্তক্ষেপ কামনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি। ১৭.৭.২০২২।