৭৫ বছর পর বিদ্যুৎ পেল কাশ্মীরের গ্রাম

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ , এপ্রিল ১০, ২০২২

সন্ধ্যা হলেই গ্রামবাসীর ঘরে জ্বলত মোমবাতি, কুপি কিংবা হারিকেন। প্রযুক্তি উৎকর্ষ সাধনের সোনালি যুগেও এমন চিত্র কি কল্পনা করা যায়? কিন্তু এমন কল্পনাও কখনো কখনো সত্যি হয়। ভারতের মতো আধুনিক রাষ্ট্রের একটি গ্রামে গত মঙ্গলবারও ছিল এমন দৃশ্য। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরের সাদ্দাল গ্রামের মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অবিচ্ছিন্ন অনুদান প্রকল্প’-এর অধীনে গত সপ্তাহের বুধবারই তারা প্রথম অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে। বিদ্যুৎ পেয়েই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হয়ে উঠেছে গ্রামের মানুষগুলো। ডিএনএ।

এই মিশনের সাফল্যের জন্য পঞ্চায়েতি রাজ আইনের তিন স্তর ব্যবস্থাকে কৃতিত্ব দিয়েছে গ্রামবাসী-যা সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে প্রয়োগ করা হয়েছিল। শিশুরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত প্রশাসন, উধমপুর প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে কৃতজ্ঞ। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্যায়ার সিং বলে, ‘এখন আমরা কোনো সমস্যা ছাড়াই আরামে পড়ি। আগে বিদ্যুতের অনুপস্থিতির কারণে, আমাদের তেলের বাতি জ্বালাতে হতো-যা পড়াশোনাকে আরও ক্লান্তিকর করে তুলত।’ ৭২ বছর বয়সি বদ্রিনাথ বলেন, ‘আগের প্রজন্ম বিদ্যুতের আলোময় ক্ষমতার সাক্ষী হতে পারেনি। আজ আমরা কৃতজ্ঞ যে বিভাগটি এত দীর্ঘ অপেক্ষার পরে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে।’

উধমপুর পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী জাভেদ হোসেন আখতার বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশে শুধু সাদ্দাল গ্রামটি বিদ্যুতায়িত করতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ রুপি। তিনি বলেন, সরকার এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুসারে ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর উপকৃত হয়েছে গ্রামের প্রায় বাড়ির মানুষ। এটি জেলার বিদ্যুৎ খাতের একটি ঐতিহাসিক অর্জন।