চকরিয়ায় রেললাইন নির্মাণকাজ পরিদর্শন করলেন রেলমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

নির্মিতব্য বহুল প্রতিক্ষিত দোহাজারি-কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণকাজের চকরিয়া অংশের বিভিন্নস্থান আজ শনিবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি রেললাইন নির্মাণ কাজে কী কী প্রতিবন্ধকতা এবং রেললাইন নির্মাণের ফলে এলাকায় কোনো ধরনের সমস্যা হতে পারে তার সম্ভাব্য সব বিষয়ে অবগত হয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষামৌসুমে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিসহ অতিবৃষ্টিতে কোথায় এবং কী কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল সেই বিষয়ের বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।

এ সময় সমস্যা চিহ্নিত করাসহ যেসব এলাকার বসতি অধিগ্রহণে সমস্যা হচ্ছে তা দ্রুত সমাধান করার জন্য কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন রেলপথ মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী, থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, পালাকাটা, সাহারবিল থেকে পহরচাঁদা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করার সময় মন্ত্রী মহোদয়ের নজরে আনা হয়। প্রয়োজন অনুপাতে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ না করায় গেল বর্ষামৌসুমে চকরিয়ার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি। এ সময় তিনি সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হিলটপ সার্কিট হাউজ সম্মেলন আয়োজিত দোহাজারি-কক্সবাজার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার। এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বলেছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। সামান্য জটিলতা কাটিয়ে বাকীদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে শিগগিরই। এজন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে পুরোদমে রেলপথ নির্মাণের কাজ চলবে। যথাসময়ে কাজ শেষ হলে আগামী ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে দোহাজারি-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তখন থেকে সরাসরি ঢাকা-কক্সবাজার রেল চলাচল শুরু হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার।

সভায় রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন আরো বলেন, এই রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চিত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব সাধিত হবে। পর্যটক বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতায়াত সুবিধা ভোগ করতে পারবে।