ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৬, ২০২২

বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। শুক্রবার কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার পর্যটক সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। আর শত শত পর্যটক সাগরের গোসল করে যেন তাদের দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন।

এদিকে হাজার হাজার পর্যটকের আগমনে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনাকে ঘিরে কক্সবাজার সৈকত এবং হোটেল মোটেল ছিল বলতে গেলে পর্যটক শূন্য। কিন্তু বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে আবারো পর্যটকের ঢল নেমেছে। এই ব্যাপক পর্যটক আগমনে খুশি হোটেল মালিক ও পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার জানান, বিজয় দিবসের ছুটি থেকে ডিসেম্বর শেষ পর্যন্ত হোটেলগুলোতে ভালই বুকিং হয়েছে। এতে করে পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ছাড়াও কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষ খুশি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ শাহিন ইমরান বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং উন্নয়নে সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সহ স্থানীয় জনগণের এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট লাবনী পয়েন্ট সুগন্ধা পয়েন্ট ডলফিন মোড় হিমছড়ি ইনানীও টেকনাফ সৈকতে হাজারো পর্যটক যাতায়াত করছেন। টুরিস্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন পর্যটন এলাকায় যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।
প্লাস্টিক দূষণরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য কক্সবাজার সৈকতে তেরী করা হয়েছে বিশালাকার এক দৈত্য। তবে এটি সত্যিকারের নয়, প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা দৈত্য।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৪২ ফুট উচ্চতার এই বর্জ্য বিরোধী দৈত্য। প্লাস্টিক দূষণরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই প্লাস্টিক দৈত্যটি তৈরি করা হয়। এটি পর্যটকদের বেশ দৃষ্টি কাড়ছে।

সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় আগে প্রচুর হকাররা ঝুপড়ি দোকান দিয়ে পর্যটকদের বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন এগুলা ভেঙ্গে দেয়ায় হকাররা এখন সৈকতের বিভিন্ন স্থানে মাটিতে বসেই এসব ক্ষুদ্র দ্রব্য বেচাবিক্রি করছে।

এ প্রসঙ্গে কয়েকজন হকার বলেছেন আগে নির্দিষ্ট জায়গায় তারা মালামাল বিক্রি করলেও পর্যটকরা ওখান থেকে ক্রয় করতেন। এখন তাদের জীবিকার প্রয়োজনে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে মাটিতে বসে এগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে তাদের কষ্ট হচ্ছে পর্যটকদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।

সম্প্রতি হোটেল মেটেল গেস্ট হাউস রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি সহ পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার পর্যটক শিল্প নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়েছিল। তাদের মতে কিছু কিছু লোক কক্সবাজারের থেকে পর্যটক সরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ী হোটেল মালিক গণমাধ্যম কর্মী সহ কক্সবাজারবাসিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি পর্যটন সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয় ওই সভায়।# – দৈনিক ইনকিলাব

Loading